Monday, August 4, 2014

India Tours

India an enchanted place, is one of those countries that offer enormous variety to travelers. It is full of contrasts at every step. Here you will find the intriguing region of Laddakh and the astonishingly beautiful Himalayan regions of Jammu&Kashmir, Himachal Pradesh, the Hills of Uttranchal and Darjeeling and Sikkim in the Northeast.
The vibrant land of Punjab and colorful Rajasthan; the capital city of Delhi and the cultural city Kolkata. that attract travelers to their fold. South of the northern plain, the Deccan offers cities that mirror the rise and fall of the Hindu and Muslim kingdoms and the modern metropolis built by the British at Mumbai. The centrally located places of interest like Hyderabad, Golconda, Bijapur, Mandu compete with each other for tourist attention.
The sun kissed beaches of Goa and the magnificent backwaters of Kerala are ever appealing. The south of India is extraordinarily diverse in terms of its landscape, people, arts, traditions and culture. If you have a religious bent of mind there is an astonishing array of sacred sites from Jain temples, architecturally beautiful Hindu temples to Buddhist stupas.
If it is history you are after, it is scattered all around; countless monuments, battle hardened forts, abandoned cities and ancient ruins and ramparts all have their tale to tell. If you simply want to laze in peace and splash around, there are beaches while lovers of the great outdoors will find a virtual storehouse of scenic spots and landscape. India provides enough opportunity for adventure tourism that includes river rafting, para gliding, and mountain biking, trekking and mountaineering. It also offers several centers for yoga and meditation for the seekers of peace and meditation. If you are a wild life aficionado, India with its countless wild life parks and sanctuaries is an ideal place to experience the thrill of wild life near unspoiled nature.



Cultural Tour of India

India's glorious diversity can leave you spellbound. It has been considered as a land with rich cultural heritage since immemorial. Centuries after centuries, this country have seen rulers like Rajputs, Mughals, English and Portuguese and religions flourishing at different times in this country like Buddhism, Jainism etc. All these factors have played their role in making an impact on the culture of this country. One can find the traces of different cultures in Music, dance, architecture, festivities, languages spoken, traditional beliefs and customs, food and many more like these. It is the development in these aspects of life makes the heritage of India vibrant and colourful.
Religion & Culture of India offers a confluence of almost every major religion in the world. As the first ray of sun approaches this ancient land, the whole atmosphere echoes with the prayers in temples, gurubani in Gurudwaras, Azaan in mosques and the chanting of Buddhist shlokas. Since time immemorial, various forms of dance and music have been an indispensable part of Indian civilization. The traditions and customs at one place in India are very different from the other places, making it a land of striking diversity; a fact that is sure to captivate you.
The people of India observe all the festivals with equal amount of zeal and enthusiasm. Some of the major festivals include Holi, Diwali, Eid, Christmas, Easter and Raksha Bandhan. Every festival has its own story that reflects to the rich cultural heritage of India. In addition to this, countless fairs are also organized throughout the year. The major fairs include Pushkar Fair, Nagaur fair and SonepurMela.
Linguistic Heritage Language, the effective means of verbal communication not just facilitates easy flow of ideas and feelings but also helps to distinguish people of different regions from each other. The Constitution of India recognizes eighteen languages and these fall into two major groups: Indic or Indo-Aryan and Dravidian. Additionally, there are over 1600 minor languages and dialects listed in the latest census. Though Hindi is the official national language, English is widely spoken by the masses and is still the official language of the judiciary.
Art and Crafts of India: Over the centuries human race have produced an exuberant artistic heritage .Art and craft are the representation of a culture and symbol of expression of a region or a group. The fascinating and traditional art and crafts of India is sure to leave you spellbound. The treasure trove of Indian handicrafts has an amazingly captivating beauty. Carved out of expensive materials like ivory, gems and marble, to the cheaper ones like clay, cane and bamboo and wood they represent the fascinating culture of the region. The exotic embroidery including 'chikankari', 'phulkari and baghwork'makesthemverydistinct.

Indian Food : India offers rich and diverse cuisine, coupled with the celebrated hospitality of the people. Simply irresistible and sumptuous, Indian dishes are any gourmet's delight. All the states and regions have their own variations and specialties signifying the culture and tradition of the place. Savor various permutations and combinations of ingredients and the innumerable aromatic spices creating magical, mouth-watering variety of the same dish, often different in taste, color and texture.

জাপান ভ্রমণ

প্রথমবার
পি আর প্লাসিড সাহিত্যপ্রেমী যুবক। বহুদিন হয় সে জাপানে থাকে। বিবেকবার্তা নামে ছোট্ট একটা কাগজ করে। ২০০৪ সালের শুরুর দিকে সে আমার ফ্ল্যাটে এল। সঙ্গে অতি লম্বা, বয়স্ক এক জাপানি ভদ্রলোক আর প্লাসিডের অতি ক্ষুদ্র ছেলেটি। নাম থাইয়ো। তখন থাইয়োর বয়স তিন সাড়ে তিন হবে। কিন্তু চঞ্চলতায় তার বয়স হাজার খানেক। সেদিনের আগে এত চঞ্চল বাচ্চা আমি আর দেখিনি। আধাঘণ্টা খানেকের মধ্যে সমস্ত ফ্ল্যাট তছনছ করে ফেলল। একদিকে থাইয়ো আমার ফ্ল্যাট তছনছ করছে, অন্যদিকে খুবই নির্বিকার ভঙ্গিতে বসে প্লাসিড আমার সঙ্গে কথা বলছে। এপ্রিলে টোকিওতে বৈশাখী মেলা হচ্ছে কয়েক বছর ধরে। জাপানপ্রবাসী বাঙালিরা একত্র হয়ে করে। সেখানে সে একটা বইয়ের স্টল করবে এবং বিবেকবার্তার পক্ষ থেকে আমাকে একটা পুরস্কার দেবে। আমি যেতে রাজি আছি কি না, পুরস্কার গ্রহণে রাজি আছি কি না এটা জানার জন্য তার সপুত্র দেশে আগমন। আমার রাজি না হওয়ার কোনো কারণ নেই।
এপ্রিলের ১৫ তারিখে টোকিও পৌঁছে গেলাম। প্লাসিড আমাকে নিয়ে তুলল টুলুর বাড়িতে। সে থাকে মিকুরা এলাকায়। জাপানি স্ত্রীর নাম ওগাহারা আখিকো। পাঁচ বছর বয়সী ছেলেটির নাম হিরোকি। না, এই বাচ্চাটি শান্ত।
বৈশাখী মেলা ১৭ তারিখে। মাঝখানে একটা ফাঁকা দিন। টুলু আমাকে অমিয়া এলাকায় নিয়ে বিখ্যাত হিকাওয়া জিনজা (টেম্পল) দেখাল। সাকুরা বাগানে নিয়ে গেল। তখনো কোনো কোনো গাছে ফুটে আছে সাকুরা, জাপানের বিখ্যাত ফুল। ছোট এবং বড় করা যায়, সাইতামা এলাকার সিনথোসি স্টেডিয়ামটি হচ্ছে তেমন। টুলু আমাকে সেই স্টেডিয়াম দেখাল। পুরোটা দিন আমরা ঘুরেই কাটালাম। বিকেলের দিকে প্লাসিড এসে যোগ দিয়েছিল।
পরদিন বৈশাখী মেলা। মেলা হচ্ছে ইকেবুকোরো এলাকার নিশিগুচি পার্কে। প্লাসিডের জাপানি বউ ইউকি আমাদের নিয়ে গেল। সঙ্গে থাইয়ো আছে। ছেলেটি এত শার্প, আমার চেহারা মনে রেখেছে। দৌড়ে এসে আমার প্যান্ট টেনে ধরল। ধরল এত আন্তরিক ভঙ্গিতে কিন্তু আমি ভয় পেয়ে গেলাম। যাব্বাবা, টেনে খুলে ফেলবে নাকি!
নিশিগুচি পার্কে বৈশাখী মেলাটি সেবার বিশাল আয়োজনে হলো। জাপানের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাঙালিরা এসেছে। টোকিওর মেয়র আছেন। তাঁর সঙ্গে আছে অনেক জাপানি গণ্যমান্য ব্যক্তি। আমাদের রাষ্ট্রদূত আছেন। পরিচয় হলো, কিন্তু তিনি আমাকে পাত্তাই দিলেন না। মনটা একটু খারাপই হলো।
সেবার দুই সপ্তাহ থাকলাম জাপানে। জাপানপ্রবাসী কবি, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক-অনেকের সঙ্গে পরিচয় হলো। সেবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো, যেখানে বৈশাখী মেলা হয়, সেই পার্কে একটা শহীদ মিনার তৈরির প্ল্যান করেছে বাঙালিরা। মেয়রের অনুমতির চেষ্টা চলছে। শহীদ মিনারের একটা মডেলও তৈরি করেছেন একজন বাঙালি আর্কিটেক্ট। শহীদ মিনারসংক্রান্ত একটা মিটিংয়ে আমি একদিন ছিলাম। ভাবতে ভালো লাগছিল যে আমাদের ভাষাশহীদদের ্নৃতির উদ্দেশে শহীদ মিনার হবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম এক শহর টোকিওতে। স্বপ্ন শেষপর্যন্ত স্বপ্নই থেকে যাবে কি না কে জানে। না, আমাদের সেই স্বপ্ন স্বপ্ন থাকেনি। বাস্তবায়িত হয়েছে। টোকিওর ইকেবুকোরো এলাকার নিশিগুচি পার্কে শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে নিজেদের জন্য গর্ব হয়।
সেবার ‘বিবেকবার্তা পুরস্কার’ দেওয়া হলো দুপুরবেলা টোকিওর এক রেস্টুরেন্টে। মনজুরুল হকের হাত থেকে নিলাম। একদিন বিকেলবেলা এনএইচকেতে গেলাম। এনএইচকে রেডিওর জন্য মনজু ভাই আমার একটা সাক্ষাৎকার নিলেন। ফেরার সময় প্লাসিড আর আমি হাঁটছি। হেঁটে হেঁটে টোকিওর বিকেল দেখছি। বিশাল এক হোটেলের সামনের ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। হোটেলের নাম অ্যানা (অঘঅ)। কেন যে হোটেলটার দিকে তাকিয়ে মনে হলো, এই হোটেলে যদি একটা রাত অন্তত কাটানো যেত! কোনো কারণ নেই, তবু মনে হলো। দ্বিতীয়বার জাপানে গিয়ে এই হোটেলেই আমাকে উঠতে হয়েছিল। আশ্চর্য এক স্বপ্নপূরণ।
তাকেশি কাইকো স্মারক বক্তৃতা

১৯৩০ সালে পশ্চিম জাপানের ওসাকা শহরে জন্মেছিলেন তাকেশি কাইকো। এই লেখক তাঁর লেখালেখির জন্য যতটা বিখ্যাত, তাঁর বলিষ্ঠ রাজনৈতিক অবস্থানের জন্যও ততটাই বিখ্যাত। জাপানি সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ দুই স্বীকৃতি আকুতাগাওয়া সাহিত্য পুরস্কার এবং মায়নিচি সাহিত্য পুরস্কার-দুটোই তিনি বেঁচে থাকা অবস্থায় পেয়েছেন। সমকালীন জাপানি সাহিত্যের তিনি এক সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। ইয়ুকিউ মিশিমার পরবর্তী প্রজন্মের ঔপন্যাসিকদের মধ্যে অন্যতম প্রধান হিসেবে তাকেশি কাইকোকে গণ্য করা হয়। ষাটের দশকে সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি ভিয়েতনামে অবস্থান করছিলেন। সে সময় এশীয় ভূখণ্ডে মার্কিন আগ্রাসনের যে নগ্ন ছবি দেখেছিলেন তা তাঁকে মার্কিনবিরোধী অবস্থানের দিকে নিয়ে যায়। ভিয়েতনামের সেই অভিজ্ঞতার আলোকে অনবদ্য এক উপন্যাস রচনা করেন। উপন্যাসের নাম ওঘঞঙ অ ইখঅঈক ঝটঘ· এ উপন্যাস পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়ে বোদ্ধা পাঠকের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। তাকেশি কাইকো মৃত্যুবরণ করেন ১৯৮৯ সালে। ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সমালোচক ও টিভিব্যক্তিত্ব কাইকো ওসাকা ইউনিভার্সিটি থেকে আইনশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। শুরুর জীবনে কিছুকাল আইনের পেশায় যোগ দিলেও এই পেশায় তিনি থাকেননি। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন সাংবাদিকতা। সাংবাদিকতা এবং সৃজনশীল সাহিত্য রচনাই ছিল মৃত্যুপর্যন্ত তাঁর প্রধান কাজ। পৃথিবীর ৪০টির মতো দেশ তিনি ভ্রমণ করেছেন। সেসব দেশের অধিকাংশই এশিয়া মহাদেশের। জাপানের বাইরে ওই সব দেশের পটভূমিতে তিনি রচনা করেন বেশ কিছু উপন্যাস। ফলে দেশগুলোর সঙ্গে গড়ে ওঠে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক।
জাপান ফাউন্ডেশন জাপানের খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক প্রতিষ্ঠান। তাকেশি কাইকোর মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জাপান ফাউন্ডেশনকে বড় রকমের একটা অঙ্কের টাকা দেওয়া হয়। সেই টাকা থেকে বছরে একবার জাপান ফাউন্ডেশন আয়োজন করে ‘তাকেশি কাইকো মেমোরিয়াল এশিয়ান রাইটার্স লেকচার সিরিজ’। এশিয়ার কোনো এক দেশের একজন লেখককে আমন্ত্রণ জানায় জাপান ফাউন্ডেশন। সেই লেখক জাপানে গিয়ে তাঁর দেশের সাহিত্য এবং নিজের লেখা নিয়ে চারটা বক্তব্য দেন। বক্তব্যগুলো তিনি তাঁর নিজের ভাষায় লিখে জাপান ফাউন্ডেশনকে পাঠিয়ে দেন। ফাউন্ডেশন সেই বক্তব্য জাপানি ভাষায় অনুবাদ করে। লেখক তাঁর নিজের ভাষায় বক্তৃতা করেন, পাশে বসে একজন জাপানি ভাষার এক্সপার্ট সেই বক্তৃতার জাপানি অনুবাদ পাঠ করেন। ২০০৫ সালের জন্য বাংলাদেশকে নির্বাচন করে জাপান ফাউন্ডেশন। আর লেখক হিসেবে নির্বাচন করে আমাকে। ঢাকায় আমাকে আমন্ত্রণ জানাতে এলেন প্রফেসর কিউকো নিওয়া এবং মিস্টার মাসাকি হিরানো। ২০০৫ সালের বক্তব্য দিতে আমি জাপানে গেলাম ২০০৬-এর মার্চে। প্রথম বক্তৃতা হলো হিরোশিমা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে। সেন্টারের পাশেই অ্যানা (অঘঅ) হোটেল। সেই হোটেলেই তোলা হলো আমাকে। ফাউন্ডেশন থেকে আমাকে একজন গাইড দিয়েছে। কচুর ডগার মতো নরম এক বাঙালি যুবক। নাম সুমন্ত ঘোষ। আরেক বাঙালি যুবক এবং শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা করা প্রায় বাঙালি এক জাপানি ভদ্রমহিলাকে নিয়ে সুমন্ত আমাকে হিরোশিমা এয়ারপোর্টে রিসিভ করতে এল। তারিখ ১০ মার্চ ২০০৬।
হিরোশিমায় নেমে আমার গা কাঁটা দিয়ে উঠেছিল। এই সেই হিরোশিমা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে, ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট সকাল আটটা ১৫ মিনিটে পৃথিবীর প্রথম আণবিক বোমা নিক্ষিপ্ত হয় এই শহরে। মুহূর্তে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল শহরের অধিকাংশ দালানকোঠা, নিহত হয় এক লাখ ২০ হাজার লোক, পরে প্রাণ হারায় তার দ্বিগুণ।
অ্যানা হোটেলের খুব কাছে সেই জায়গা, যেখানে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল আণবিক বোমা। হেঁটে যেতে কয়েক মিনিট লাগে। হোটেলে লাগেজ রেখেই বেরিয়ে গিয়েছিলাম। এলাকাজুড়ে ‘পিস মেমোরিয়াল পার্ক’। ১৯৫৫ সালে এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল মিউজিয়াম’। পৃথিবীর লাখ লাখ মানুষ এই মিউজিয়াম দেখতে আসে, আণবিক বোমার ভয়াবহতার কথা মনে করে হিরোশিমা ট্র্যাজেডির জন্য এখনো চোখের পানি ফেলে। শিশুরা পিস মনুমেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে স্তব্ধ হয়ে থাকে। হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল পার্কে ঘুরতে ঘুরতে আমার মনে পড়েছিল আমার দেশের কথা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা। স্বজন হারানোর বেদনায় আমার বুক ভারী হয়েছিল।
পিস মেমোরিয়াল পার্কের এক পাশে দাঁড়িয়ে আছে চারতলা এক পুরোনো বাড়ির কঙ্কাল। সুমন্ত বলল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বাড়িটা ছিল পাবলিক লাইব্রেরি। আণবিক বোমার আঘাতে পুরো এলাকা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর শুধু এই বাড়িটা এভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। গা থেকে খসে পড়েছে আস্তরণ, দাঁড়িয়ে আছে শুধু কঙ্কাল। আমি সেই বাড়ির সামনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি।

পরদিন বক্তৃতা। প্রফেসর কিউকো নিওয়া এবং মিস্টার মাসাকি হিরানোর সঙ্গে টোকিও থেকে এসেছেন আনোয়ার জাহিদ। তিনি এনএইচকেতে কাজ করেন। আমার বক্তৃতার জাপানি অনুবাদ করেছেন। অসম্ভব সুন্দর কণ্ঠের অধিকারী। স্টেজে বসে আমি এক প্যারা করে বক্তৃব্য পাঠ করি, আনোয়ার জাহিদ সঙ্গে সঙ্গে সেই এক প্যারার জাপানি অনুবাদ পড়েন। মিলনায়তন ভর্তি জাপানি লেখক, প্রকাশক, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং হিরোশিমার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্যের ছাত্রছাত্রী। বক্তৃতার আগে মাসাকি হিরানো আমার হাতে একগাদা টাকা ধরিয়ে দিয়েছেন। প্লেনের টিকিট আগেই আমাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। হোটেলের খরচ ইত্যাদি সবই বহন করছে জাপান ফাউন্ডেশন। এর বাইরে প্রতিদিনকার হাতখরচের টাকা দিচ্ছে, বক্তৃতার জন্য দিচ্ছে। প্রতিটি বক্তৃতার জন্য আমাকে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু চারটি বক্তৃতা আমি লিখিনি। লিখেছি একটি। যেহেতু বক্তৃতার জায়গা ভিন্ন ভিন্ন, শ্রোতা ভিন্ন ভিন্ন, সুতরাং একটি বক্তৃতাই আমি পাঠ করব। এদিক দিয়ে আমার কিছুটা লস হয়ে গেল। চারটি ভিন্ন বক্তৃতা লিখলে তিন গুণ বেশি টাকা পাওয়া যেত। আর জাপানে থাকা অবস্থায় মারাটারা গেলে আমার পরিবার পেত বিশাল অঙ্কের টাকা। জাপান ফাউন্ডেশন আমার ইন্স্যুরেন্স দিয়েছিল ৩০ মিলিয়ন ইয়েনের। আর চমৎকার একটা স্যুভেনির বের করেছিল আমাকে নিয়ে।
চার দিন ছিলাম হিরোশিমায়। এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছি আর আমার শুধু মনে পড়ছে এই শহরের সেই ভয়ঙ্কর ট্র্যাজেডির কথা। এখনো সেই ভয়াবহ ্নৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন কিছু মানুষ। আণবিক বোমার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া সেসব মানুষকে বলা হয় ‘হিবাকুশা’। আণবিক বোমা হামলার সময় হিরোশিমা শহরের লোকসংখ্যা ছিল দুই লাখ ৫৫ হাজার। বোমাটির ওজন ছিল ৬০ কেজি। যে বিমানটি বোমা বহন করছিল তার নাম ‘এনোলা গে’। বোমাটির নাম ‘লিটল বয়’। বিমানের কমান্ডার কর্নেল পল টিবেটস। ১৯৪৫ সালের ৫ আগস্ট টিবেটস আনুষ্ঠানিকভাবে ৪৪-৮৬২৯২ নম্বরের বোমারু বিমানটির নামকরণ করেন ‘এনোলা গে’। ‘এনোলা গে’ ছিল তাঁর মায়ের নাম। টিবেটসের নানার একটি প্রিয় উপন্যাসের নায়িকার নাম ছিল ‘এনোলা গে’। উপন্যাসের নায়িকার নামে মেয়ের নাম রেখেছিলেন ভদ্রলোক। ভূপৃষ্ঠ থেকে দুই হাজার ফুট উঁচুতে ১৩ কিলোটন শক্তিতে বিস্কোরিত হয় ‘লিটল বয়’। হিরোশিমা শহরের কেন্দ্রস্থলে, যেখানে বিস্কোরিত হয় বোমা, সেই জায়গাটিকে বলা হয় ‘এ বোম্ব ডোম’। বোমা বিস্কোরণের পর ‘এনোলা গে’র কো-পাইলট রবার্ট লুই দেখতে পেলেন একটি বিশাল ছাতার মতো ভয়ঙ্কর ঘন মেঘে হিরোশিমা ঢাকা পড়ে গেছে। শহরটি ফুটছে, ঝলসে যাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে তিনি আপন মনে বলে উঠলেন, ‘হায় ঈশ্বর, আমরা এ কী করলাম!’
সাওরির সঙ্গে দেখা হলো ১৪ মার্চ ২০০৬। টোকিওর হানেদা এয়ারপোর্টে সে আমাকে রিসিভ করতে এসেছে। পুরো নাম সাওরি তাকাহাসি। বয়স ২৭ বছর। জাপান থেকে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য পড়তে এসেছিল। ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে থাকত। পড়াশোনা শেষ না করেই জাপানে ফিরে গিয়েছিল। চমৎকার বাংলা বলে, চমৎকার রবীন্দ্রসংগীত গায়। সামান্য আনন্দেই শিশুর মতো হাততালি দেয়। আমার বাকি তিনটি বক্তৃতা হবে টোকিও, ওসাকা ও সেন্দাইতে। হাতে সময় ১০ দিন। এই ১০ দিন ২৪ ঘণ্টা সাওরি আমার সঙ্গে। এই তিন জায়গায় সে আমার গাইড। সাওরি এনএইচকেতে কাজ করে। দেখা হওয়ার মুহূর্তেই সাওরির সঙ্গে আমার ভাব হয়ে গেল। হানেদা থেকে ট্রেনে করে টোকিওর সেই আনা হোটেলে যাচ্ছি। ফাঁকা কামরায় আমি আর সাওরি; সাওরি আমাকে রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে শোনাল-‘বড় আশা করে এসেছি গো কাছে ডেকে লও’।
প্রথমবার টোকিওতে এসে আমি অনেক কিছুই দেখেছিলাম। যেমন ‘টোকিও টাওয়ার’ ‘রূপপুঙ্গি হিলস’। সাওরি আমাকে দেখাল ‘মুরি আর্ট মিউজিয়াম’ ‘মেইজি জিইনগু’ (মন্দির)। ১৫ মার্চ বেলা তিনটায় জাপান ফাউন্ডেশন ভবনের নিজস্ব অডিটরিয়ামে বক্তৃতা। মিলনায়তন ভর্তি দর্শক-শ্রোতার মধ্যে তিন-চারজন মাত্র বাঙালি। মনজু ভাই, প্লাসিড, এমদাদ। কিন্তু সেদিন জাপানি রীতিনীতি ভেঙে বক্তৃতা শুরু করতে হলো পাঁচ মিনিট দেরিতে। কী কারণ? মাসাকি হিরানো হাসিমুখে বললেন, ‘তোমাদের রাষ্ট্রদূত সাহেব আসবেন। তিনি অনুরোধ করেছেন, পাঁচ মিনিটের মধ্যে এসে পৌঁছাবেন। তিনি এলে যেন বক্তৃতা শুরু হয়।’ আমি একটু বিরক্তই হলাম। এই সেই ভদ্রলোক, বৈশাখী মেলায় আমাকে পাত্তাই দেননি। ভদ্রতা করেও একটি কথা বলেননি। যা হোক, পাঁচ মিনিট পরে আমি মিলনায়তনে ঢুকলাম। সঙ্গে সঙ্গে আমার সম্মানে উঠে দাঁড়ালেন মিলনায়তন ভর্তি মানুষ। প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন আমাদের রাষ্ট্রদূত। তাঁর পাশে পরবর্তীকালে বাংলাদেশে যিনি জাপানি রাষ্ট্রদূত সেই ভদ্রলোক। আমি দুজনকেই অভিবাদন জানালাম। বলতে লজ্জা লাগছে, তবু বলি, পরবর্তীকালে বাংলাদেশে জাপানি রাষ্ট্রদূত ভদ্রলোক আমার বক্তব্য শুনে এতটা মুগ্ধ হলেন, আমার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করার সময় উচ্ছ্বসিত গলায় বললেন, ‘আরে, তোমার তো··· প্রাইজ পাওয়া উচিত।’ সাওরি আমার পাশে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছিল।
সাওরি আমাকে টোকিওর এক সাকুরা বাগানে নিয়ে গিয়েছিল। তিন-চার ঘণ্টা সেই ফুলের বনে আমরা ঘুরে বেড়ালাম। একদিন জাপানের ঐতিহ্যবাহী কাভুকি নাটক দেখাল। সেই রাতে বসন্তের হাওয়া বইছিল পুব দিক থেকে। সাওরি বলল, এই হাওয়াকে জাপানি ভাষায় বলে ‘সুমপু’।
টোকিও থেকে ওসাকা গিয়েছিলাম ‘সিনকেনসেন’-এ। মানে বুলেট ট্রেনে। সেই পথে দেখা হলো ‘ফুজি মাউনটেন’। জাপানিরা শ্রদ্ধা করে বলে ‘ফুজি সান’। তারিখ ১৭ মার্চ ২০০৬। আমার শেষ বক্তৃতা ছিল ‘সেনদাই’তে। সেনদাই লিটারারি মিউজিয়ামে। সেখানে ঢুকেই দেখি নূরজাহানসহ আমার অনেক বই সাজিয়ে রাখা। আর দেয়ালে রবীন্দ্রনাথের বিশাল এক ছবি। আমাকে দেখে বেশ একটা সাড়া পড়ল দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে। একজনও বাঙালি নেই, সবাই জাপানি। আমার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ভালো রকম ব্যগ্র দেখলাম তাদের। সাওরি দূরে দাঁড়িয়ে শুধু মিটিমিটি হাসে। এই মেয়ে আমাকে ‘কিয়োটো’ নিয়ে গিয়েছিল। কিয়োটো জাপানের প্রাচীনতম এক শহর। মন্দিরের শহর। ওই শহরে দার্শনিকদের হাঁটার জন্য আলাদা একটা রাস্তা আছে, রুপার মন্দির আছে, সোনার মন্দির আছে। সাওরি আমাকে ঘুরে ঘুরে সব দেখাল। সেবার জাপানে সাওরির সঙ্গে ১০টি দিন আমার জীবনের শ্রেষ্ঠতম সময়।
তৃতীয়বার
২০০৮ সালের আগস্টে আবার গিয়েছি জাপানে। সেবার শুধু টোকিওতেই। জাপানে প্রচুর বিক্রমপুরের লোক। বিক্রমপুর সোসাইটি খুবই নামকরা সংগঠন। তাদের অভিষেক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আমাকে ‘রাইটার্স অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হবে। সেই অ্যাওয়ার্ড নিতে গেছি। এমদাদ নামে আমার এক প্রিয়ভাজন অন্য একটি মেলার আয়োজন করেছে। সেই মেলায়ও আমি প্রধান অতিথি। প্রথমে এমদাদের অনুষ্ঠান। তার সঙ্গে থাকলাম চার দিন। তারপর বিক্রমপুর সোসাইটির অনুষ্ঠান। সোসাইটির সভাপতি নূর আলী আমাকে নিয়ে তুলল অন্য হোটেলে। ঢাকা থেকে কিছু নাচ-গানের শিল্পী, অভিনয়শিল্পীও এসেছেন এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে। দেলোয়ার নামে আমার অতিপ্রিয় একটি ছেলে সারাক্ষণ আমার সঙ্গে। সেবারের ভ্রমণে দিনগুলো কেটেছিল বিক্রমপুরের ছেলেদের সঙ্গেই, খুব আনন্দে।
আপাতত শেষবার
আবার সেই পি আর প্লাসিড। ২০০৯ সালের বৈশাখী মেলা উপলক্ষে প্লাসিড প্রথমবারের মতোই আমার একক বইয়ের স্টল করল। দ্বিতীয়বারের মতো ‘বিবেকবার্তা পুরস্কার’ দিল আমাকে। আমার হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন মিসেস ক্যাথরিন মারিনো। ‘ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব অব জাপান’-এর প্রেসিডেন্ট তিনি। ইকেবুকোরো নিশিগুচি পার্কের যেখানটায় আমাদের শহীদ মিনার, তার প্রায় লাগোয়া একটি মিলনায়তনে এক মনোরম সন্ধ্যায় ক্যাথরিন আমার হাতে এই পুরস্কার তুলে দিলেন। তিনি আমেরিকান, স্বামী জাপানিজ। ভদ্রমহিলা যতটা জাঁদরেল, ভদ্রলোকটি ততটাই নম্র। স্ত্রীর প্রতিভায় খুবই মুগ্ধ ভদ্রলোক। দেশে ফিরে দেখি প্রতিটি ইংরেজি দৈনিকে ক্যাথরিন আমার হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন এই ছবি ছাপা হয়েছে।
জাপানে এক বক্তৃতায় দেশটিকে বলেছিলাম ‘আমার দ্বিতীয় দেশ’। বলার কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশের বাইরে এই একটি মাত্র দেশ, চারবার গিয়েছি সেই দেশে, চারবারই সাহিত্যের জন্য কোনো না কোনোভাবে সম্মানিত হয়েছি আমি। তাকেশি কাইকো ্নারক বক্তৃতার মতো বিশাল সম্মান জুটেছে। সুতরাং জাপানের কাছে আমার ঋণ অনেক।
এবার সাওরির সঙ্গে দেখা হয়নি। সাওরির বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামীর সঙ্গে সে এখন ওসাকায়। ফোনে কথা হয়েছে। ফেরার সময় খুব মনে পড়ছিল তার কথা। কিয়োটোর সোনার মন্দিরে সে আমাকে নিয়ে গিয়েছিল। মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে আমার মনে পড়েছিল রবীন্দ্রনাথের সেই বিখ্যাত গান-
আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি
তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী!
ওগো মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে!
তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে।

নদীর বুকে এক রাত

এলিফ্যান্ট রোড থেকে রিকশা করে সদরঘাটে ঢাকা নদীবন্দর যেতে যেতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। তেমন একটা ভিড় নেই নদীবন্দরে। টার্মিনালে ছোট-বড় অনেক লঞ্চ ভেড়ানো। ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চগুলোই সবচেয়ে ভালো ও উন্নত মানের। দক্ষিণবঙ্গের মানুষ লঞ্চে করে বাড়িতে যায়। খুব আরামদায়ক ভ্রমণ। পুরো রাত ঘুমিয়ে সকালে বরিশাল।
আমরা তখন বরিশালগামী লঞ্চ সুন্দরবন-৭-এর একটি ভিআইপি কেবিনে। আধুনিক সব ব্যবস্থাই আছে। কেবিন-বয় চা দিয়ে গেল। কাপটি নিয়ে বারান্দায় পায়চারি করতে করতে একজনের সঙ্গে পরিচয়। উত্তরবঙ্গের মানুষ। এত বড় লঞ্চ দেখে হতবাক তিনি। বাস, ট্রাক দেখেই তিনি অভ্যস্ত। যমুনার বুকে তিনি কখনো এত বড় জলযান দেখেননি। কথা বলতে বলতে আটটা ত্রিশ বেজে গেল। হুইসেলের শব্দ। কিছুক্ষণের মধ্যে সুন্দরবন-৭ বরিশালের উদ্দেশে ঢাকা নদীবন্দর ত্যাগ করবে। ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা রুটের নৌযানগুলো একটু তাড়াতাড়িই ছেড়ে চলে যায় গন্তব্যের দিকে।
বারান্দার টিউব লাইটের আলোটা নিভে গেল। লঞ্চ ছেড়ে দিল। ঢাকার কোলাহল আস্তে আস্তে কমে আসছিল। রাতের আঁধারে মাঝে মাঝে জ্বলছে বাতি। লঞ্চ বুড়িগঙ্গা ছেড়ে পড়ল গিয়ে ধলেশ্বরীর জলে।
রাতের খাবার এল ১০টার দিকে। রুপচাঁদা, পদ্মার ইলিশ ভাজা, ডাল চচ্চড়ি, সেই সঙ্গে কয়েক রকম ভর্তা-ভাজি। তোফা ব্যবস্থা। মুরগি ভুনাও আছে। অনেকে আবার বাসা থেকে খাবার সঙ্গে করে নিয়েও আসেন।
রাত দুটো। পদ্মা কিংবা মেঘনা নদীতে লঞ্চ। চাঁদ জেগে আছে মাথার ওপর। রাতজাগা চাঁদের অলোয় নদীর জলে অনন্য এক রুপালি আভা। গুমগুম করে জল কেটে চলে লঞ্চ। রাতে নদীর মাঝের বিশুদ্ধ বাতাসে দেহ-মন পুরোটাই জুড়িয়ে যায়। লঞ্চ ভ্রমণটা শীতের দিনে একরকম আনন্দের, আবার বর্ষাকালে আরেক ধরনের মজা। তবে বসন্ত ও বর্ষার সময় সবচেয়ে বেশি মজা। শীতের দিনে প্রকৃতি মোড়া থাকে কুয়াশার চাদরে। নদীপথে যেতে দেখা যায় নদীর জলের মধ্যে আলো জ্বলছে। আসলে এগুলো হলো ছোট ছোট মাছ ধরার নৌকা। কখনো দেখা হয়ে যেতে পারে কোনো স্টিমারের সঙ্গে। দূরে কিছুক্ষণ পরপর জ্বলে ওঠে লাল, সবুজ আলো। নৌযানগুলো কোন পথ দিয়ে যাবে, এসব বাতিঘর আলো জ্বালিয়ে তার নির্দেশনা দেয়।
বড় নদী পাড়ি দিয়ে লঞ্চ একসময় ছোট নদীতে পড়ে। তখন আর বরিশাল বেশি দূরে নয়। রাতের নীরবতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। ভোরের আলো জেগে ওঠে। ভোরের পাখিরা উড়ে যায় দূরে কোথাও। শান্ত এক নদীতে চলে আসে লঞ্চটি। তার নাম হলো কীর্তনখোলা। বরিশাল এ নদীর তীরেই অবস্থিত।
তখন ভোর ছয়টা। অনেক যাত্রী তখনই নামতে শুরু করেন। কেউ আবার লঞ্চেই একটু বেলা পর্যন্ত ঘুমিয়ে নেন। ঢাকা বন্দরে লঞ্চ ভিড়লে অনেক কাকপাখি আপনাদের আমন্ত্রণ জানাবে। কিন্তু এখানে ঘুম থেকে উঠে দেখবেন, একঝাঁক শালিক চেয়ে আছে আপনার দিকে।
লঞ্চ থেকে নেমে বরিশাল শহর ঘুরে দেখতে পারেন। ছোট্ট এক শহর। কিন্ত দেখার মতো রয়েছে কিছু স্থান। বিকেলের দিকে কীর্তনখোলা নদীর রূপটি দেখতে পারেন। অনেক পাল তোলা নৌকা, নদীর পাড়ের সবুজ আপনাকে মুগ্ধ করবে। ঘুরে আসতে পারেন কবি জীবনানন্দের বাড়ি, ব্রজমোহন কলেজ, শঙ্কর মঠ, বেলস লেক (বঙ্গবন্ধু উদ্যানসংলগ্ন), ত্রিশ গোডাউন, আরজ আলী মাতুব্বরের বাড়ি, অক্সফোর্ড মিশন চার্চ, শিশু পার্ক, পদ্মপুকুর, দুর্গা সাগর, অশ্বিনী কুমার হল, বিবির পুকুর। সবকিছু ঘুরে দেখতে দুই দিন লাগবে। অটোরিকশা ভাড়া করে নিলেই সবই হাতের কাছে। পরিচিত কেউ থাকলে অবশ্যই তার সাহায্য নেবেন।
কীভাবে যাবেন
বাস, সিএনজি, রিকশা করে সোজা চলে যাবেন গুলিস্তান বা সদরঘাট। সন্ধ্যা থেকেই অনেক লঞ্চ ছাড়ে। বরিশাল যেতে চাইলে বড় বড় নৌযান আছে। বিশেষ করে সুরভী-৭ ও ৮; সুন্দরবন-৭, পারাবত-২, ৭, ৯ ও ১১; কীর্তনখোলা, কালাম খান ইত্যাদি। অগ্রিম টিকিট বুকিংয়ের জন্য ফোন করতে পারেন। সুরভী-০১৭১২৭৭২৭৮৬, পারাবত-০১৭১১৩৪৬০৮০। স্টিমারে করে বরিশাল যেতে চাইলে চলে যান ঢাকার সদরঘাটের বাদামতলী ঘাটে। অগ্রিম বুকিংয়ের জন্য বিআইডব্লিউটিএর অফিসে যোগাযোগ করুন।

আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাই নবাবগঞ্জ

উত্তরবঙ্গের আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদিত হয় এ জেলাতেই। এ জেলার সর্বত্রই মাইলের পর মাইল জুড়ে ছড়িয়ে আছে আমবাগান। এ জেলাতে আছে প্রাচীন গৌড়ের নানা ঐতিহাসিক স্থাপনা। এ জেলার উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে রাজশাহী ও নওগাঁ জেলা অবস্থিত। মহানন্দা এ জেলার প্রধান নদী। রাজধানী থেকে চাঁপাই নবাবগঞ্জের দূরত্ব ৩১৭ কিলোমিটার।
মহানন্দা নদী ঃ চাঁপাই নবাবগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে মহানন্দা নদী। এককালের প্রমত্তা মহানন্দা এখন অনেকটা মরে গেলেও এর সৌন্দর্য কমেনি কোনো অংশে। নদীর উপরে শহরের কাছেই রয়েছে মহানন্দা সেতু। আমের সময়ে শহরের থানাঘাটে প্রতিদিন সকালবেলা দূর-দূরান্ত থেকে অনেক নৌকা ভিড় জমায়। খুব ভোরে শুরু হয়ে এ বাজার, বেলা ওঠার কিছু পরেই শেষ হয়ে যায়। সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে দিনে দিনে নৌকার সংখ্যা কমে আসছে এ বাজারে।
কোতোয়ালি দরওয়াজা ঃ ভারত- বাংলাদেশের সিমান্তে ছোট সোনা মসজিদ স্থল বন্দর থেকে ভারতের প্রবেশপথে অবস্থিত। নগর পুলিশের ফারসি প্রতিশব্দ কোতওয়ালের অনুকরণে এর নামকরণ। এ নগর পুলিশ প্রাচীন গৌর নগরীর দক্ষিণ অংশ রক্ষার কাজে নিয়োজিত ছিল বলে জানা যায়। প্রবেশপথের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের দেয়ালে ছিদ্র আছে। এগুলি দিয়ে শত্রুর ওপর গুলি কিংবা তীর ছোড়া হতো বলে ধারণা করা হয়। বর্তমানে এটি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। কোতোয়ালি দরওয়াজাটি সাধারণভাবে কাছে গিয়ে দেখার উপায় নেই। সোনা মসজিদ স্থলবন্দরে দাঁড়িয়ে কেবল দূর থেকে দেখা সম্ভব। কারণ এটি ভারতের অংশে পড়েছে।
খনিয়াদিঘি মসজিদ ঃ সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে পূর্ব দিকের সড়ক ধরে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সড়কের বাম পাশে আমবাগানের ভেতরে খনিয়া দিঘির পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত মসজিদটি। ইটের তৈরি এ মসজিদটি এক গম্বুজবিশিষ্ট। প্রার্থনাকক্ষের ঠিক উপরে বিশাল আকারের এ গম্বুজটির অবস্থান। মসজিদের মূল প্রার্থনা কক্ষের বাইরে একটি বারান্দা আছে। বারান্দা থেকে মূল প্রার্থনাকক্ষে প্রবেশের জন্য রয়েছে তিনটি দরজা। পশ্চিম দেয়ালে আছে তিনটি মেহরাব। মাঝের মূল মেহরাবটি অন্য দুটি অপেক্ষা বড়। পুরো মসজিদটি এক সময় টেরাকোটায় আচ্ছাদিত ছিল, যার অনেকগুলো এখনো বিদ্যমান।
ধুনিচক মসজিদ ঃ খনিয়াদিঘি মসজিদের প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি মসজিদ। মসজিদটির উত্তর ও দক্ষিণের দেয়াল এবং ভেতরের পাথরের স্তম্ভ এখনো টিকে আছে। ছাদ এবং পূর্ব দেয়াল পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত। ইটের তৈরি এ মসজিদটি আয়তকার। মসজিদটির নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য নেই। তবে নির্মাণশৈলী বিবেচনায় এ মসজিদটিও পনেরো শতকের শেষের দিকে ইলিয়াস শাহী আমলে নির্মিত।
দরসবাড়ি মাদ্‌রাসা ঃ সোনা মসজিদ স্থলবন্দরের পশ্চিম পাশে অবস্থিত প্রাচীন একটি মাদ্‌রাসার ধ্বংসাবশেষ। চারপাশে প্রায় ৫৫ মিটার দৈর্ঘ্যের বর্গাকৃতির এ স্থাপনাটিতে চল্লিশটি কক্ষ ছিল। ৪১.৫ মিটার আঙিনার চার পাশে ঘিরে ছিল ৩ মিটার দৈর্ঘ্যের বর্গাকৃতির এ কক্ষগুলো। এখানে একটি ঢিবির কাছে চাষ করার সময় কৃষকরা কয়েকটি ইট নির্মিত প্রাচীর ও একটি শিলালিপির সন্ধান পান। এ কারণে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সেখানে ১৯৭৪-৭৫ সালে পরীক্ষামূলক খনন কাজ চালায়। আর সে খননের ফলেই আবিষ্কৃত হয় মাদ্‌রাসাটির ভিত্তির। শিলালিপি থেকে জানা যায় মাদ্‌রাসাটি সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ ১৫০৬ সালে নির্মাণ করেছিলেন। দরস অর্থ শিক্ষা আর দরসবাড়ি অর্থ শিক্ষাকেন্দ্র। আর দরসবাড়িই কালক্রমে দারাসবাড়ি নামে রূপান্তরিত হয়েছে।
দরসবাড়ি মসজিদ ঃ দরসবাড়ি মাদ্‌রাসা থেকে সামান্য পশ্চিমে বড় একটি পুকুরের ওপারে অবস্থিত দরসবাড়ি মসজিদ। কলকাতার ইণ্ডিয়ান মিউজিয়ামে সংরক্ষিত এ মসজিদের শিলালিপি থেকে জানা যায় ১৪৭৯ খ্রিস্টাব্দে শামসুদ্দীন আবুল মুজাফফর ইউসুফ শাহ কর্তৃক নির্মিত হয় মসজিদটি। এর বাইরের দিকের পরিমাপ দৈর্ঘ্য ৩৪ মিটার এবং প্রস্থ ২০.৬ মিটার। আর ভেতরের দিকের দৈর্ঘ্য৩০.৩ এবং প্রস্থ ১১.৭ মিটার। মসজিদটির ছাদ বহু আগে ভেঙে পড়েছে। আর সামনে ভেঙে পড়া বারান্দার ধ্বংসাবশেষ আছে। বাংলার মধ্যযুগীয় স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য সংবলিত এ মসজিদের বাইরে ও ভেতরে লাল ইটের এবং পাথরের টেরাকোটা স্থান পেয়েছে। মসজিদের দুটি অংশণ্ড একটি সামনের বারান্দা এবং পশ্চিমে মূল প্রার্থনা কক্ষ ।
তাহ্‌খানা ঃ সোনা মসজিদ স্থলবন্দর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে সোনা মসজিদের পশ্চিম পাশে কিছুটা ভেতরের দিকে বিশাল একটি দিঘির পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত পাশাপাশি তিনটি প্রাচীন স্থাপনা। এর সর্বদক্ষিণেরটি হলো তাহখানা। ভবনটিতে বেশ কয়েকটি কক্ষ ছিল। ভবনটির লাগোয়া পূর্ব দিকে আছে দিঘি। দিঘির ভেতর থেকেই ভিত্তি গড়ে ভবনটির পূর্বাংশ তৈরি করা হয়েছিল। এর নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য জানা যায় না। তবে জনশ্রুতি আছে সম্রাট শাহজাহানের ছেলে শাহ সুজা ১৬৫৫ সালে ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন তার বসবাসের জন্য। আবার কারো কারো মতে শাহ সুজা গৌড় অঞ্চলে বসবাসকারী তার পীর শাহ নিয়ামত উল্লাহর জন্য এ ভবন নির্মাণ করেন।
শাহ নিয়ামত উল্লাহ মসজিদ ঃ তাহ্‌খানা লাগোয়া উত্তর পাশের তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ। মসজিদটির পূর্ব দিকে একটি খোলা আঙিনার চার পাশে আছে অনুচ্চ দেয়াল। পূর্ব দেয়ালের মাঝামাঝি জায়গায় আছে তোরণসহ প্রবেশপথ। মসজিদটির পূর্ব দেয়াল তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে একটি করে প্রবেশপথ আছে। মসজিদটি নির্মাতা কে ছিলেন সে সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য নেই। তবে জনশ্রুতি আছে সম্রাট শাহজাহান শাহ নিয়ামত উল্লাহকে বছরে পাঁচ হাজার টাকা আয়ের একটি সম্পত্তি দান করেন। তিনি ৩৩ বছর এ সম্পত্তি ভোগদখল করেন এবং এর আয় থেকে তার খানকার ব্যয় নির্বাহ করে উদ্বৃত্ত অংশ দিয়ে এ মসজিদ নির্মাণ করেন।
শাহ নিয়ামত উল্লাহর সমাধি ঃ মসজিদের লাগোয়া উত্তর দিকের ভবনটি শাহ নিয়ামত উল্লাহর সমাধি। প্রায় তিন বিঘা জায়গাজুড়ে সমাধি এলাকার বেস্টনী প্রাচীর । দক্ষিণ দেয়ালে আছে প্রবেশপথ। এখান থেকে পাকা পথ ধরে কিছুটা সামনেই সমাধিসৌধ। সৌধটির চারপাশে রয়েছে পাথরে বাঁধানো বেশ কিছু কবর। দিল্লির করনৌল প্রদেশের অধিবাসী শাহ নিয়ামত উল্লাহ ছিলেন একজন সাধক পুরুষ। কথিত আছে, ভ্রমণের প্রতি তার ছিল প্রবল ঝোঁক। ভ্রমণ করতে করতে একসময় তিনি এসে উপস্থিত হন গৌড় এলাকায়। শাহ সুজা তখন বাংলার সুবাদার। শাহ সুজা নিয়ামত উল্লাহর সাক্ষাতে মুগ্ধ হন। এরপর তিনি এ জায়গায় বসবাস শুরু করেন। ১৬৬৪ সালে এখানেই তিনি মারা যান। তবে তার কবরের উপরে সৌধটি কে নির্মাণ করেন, সে সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য জানা যায় না।
ছোট সোনা মসজিদ ঃ তাহ্‌খানা থেকে পূর্বপাশে প্রধান সড়ক লাগোয়া অবস্থিত সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন হিসেবে খ্যাত ছোট সোনা মসজিদ। কালোপাথরে নির্মিত এ মসজিদটির স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য খুবই আকর্ষণীয়। প্রধান প্রবেশপথের উপরে স্থাপিত একটি শিলালিপি অনুযায়ী জনৈক মজলিস মনসুর ওয়ালী মোহাম্মদ বিন আলী কর্তৃক মসজিদটি নির্মিত হয়। শিলালিপি থেকে নির্মাণের তারিখ সংবলিত অক্ষরগুলো মুছে যাওয়ায় মসজিদটি নির্মানের সঠিক তারিখ জানা যায় না। তবে এতে সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ-এর নাম থাকায় ধারণা করা হয় মসজিদটি তাঁর রাজত্বকালের (১৪৯৪-১৫১৯) কোনো এক সময় নির্মিত।
মসজিদটির মূল ভবনটি আয়তকার। বাইরের দিকে উত্তর-দক্ষিণে ২৫.১ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১৫.৯ মিটার। পূর্ব দিকের সম্মুখভাগে পাঁচটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে তিনটি করে প্রবেশপথ আছে। পূর্ব দেয়ালের প্রবেশপথ বরাবর পশ্চিম দেয়ালের অভ্যন্তরে পাঁচটি অর্ধবৃত্তকার মেহরাব রয়েছে। মসজিদের পূর্বপাশে একটি পাথরের প্লাটফর্মের উপরে দুটি সমাধি রয়েছে। এখানে কারা সমাহিত হয়েছেন তা সঠিক জানা যায়নি। তবে ঐতিহাসিক কানিংহাম সমাধি দুটি মসজিদের নির্মাতা ওয়ালী মুহাম্মদ ও তার পিতা আলীর বলে মনে করেন। মসজিদ প্রাঙ্গণের অভ্যন্তরে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে দুটি আধুনিক সমাধি রয়েছে, যার একটিতে সমাহিত আছেন বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর।
কানসাট বাজার ঃ সোনামসজিদ থেকে চাঁপাই নবাবগঞ্জ ফেরার পথে পড়বে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় আমের বাজার কানসাট। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বাজারে চলে আমের বিকিকিনি। দূর-দূরান্ত থেকে সাইকেল কিংবা রিকশা-ভ্যানে করে আম নিয়ে সকাল থেকেই এখানে জড়ো হতে থাকেন আম চাষিরা। বাজারটি ঘুরে দেখতে পারেন।
আমবাগান ঃ মহানন্দা সেতু পেরিয়ে সোনা মসজিদ স্থল বন্দর পর্যন্ত সড়কের দুপাশে যে দিকে চোখ যাবে সেদিকেই শুধু আম বাগান আর আম বাগান। পছন্দের যে কোনো বাগোনে নেমেই ঘুরে দেখতে পারেন।
কখন যাবেন ঃ চাঁপাই নবাবগঞ্জে সারা বছরই বেড়ানো সম্ভব। তবে সবচেয়ে উপযুক্ত সময় মে থেকে জুলাই। কারণ এ সময়ে জেলার সর্বত্র আম বাগানগুলোতে ফলে পূর্ণ থাকে।
কীভাবে যাবেন ঃ রাজধানী থেকে সরাসরি সড়কপথে চাঁপাই নবাবগঞ্জ যাওয়া যায়। ঢাকার গাবতলী ও কল্যাণপুর থেকে ছাড়ে এ পথের বাসগুলো। এ পথের বাস সার্ভিস হলো- মডার্ন এন্টারপ্রাইজ (০১৭১১২২৮২১৭), ন্যাশনাল ট্রাভেলস (০১৭১১২২৮২৮৬), হানিফ এন্টারপ্রাইজ (০১৮১৩০৪৯৫৪৩), লতা পরিবহন, দূর-দূরান্ত পরিবহন ইত্যাদি বাসগুলো সরাসরি যায় চাঁপাই নবাবগঞ্জ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলাচল করে এ পথের বাসগুলো। ভাড়া ৩০০-৩২০ টাকা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে কানসাট, সোনামসজিদ স্থল বন্দরে যাবার জন্য লোকাল ও বিরতিহীন বাস সার্ভিস আছে। ভাড়া ৩০-৩৫ টাকা।
কোথায় থাকবেন ঃ চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা শহরে থাকার জন্য সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে। শহরের শান্তি মোড়ে হোটেল আল নাহিদ (০৭৮১-৫৫৭০১-৩, ০১৭১৩৩৭৬৯০২), আরামবাগে হোটেল স্বপ্নপুরী (০৭৮১-৫৬২৫০), লাখেরাজ পাড়ায় হোটেল রাজ (০৭৮১-৫৬১৯৩), একই এলাকায় হোটেল রংধনু (০৭৮১-৫৫৮০৭)। এছাড়াও আরো বেশ কিছু হোটেল আছে এ শহরে। এসব হোটেলে ২০০-১০০০ টাকায় অবস্থান করা যাবে।
ফোনঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা (০৭৮১-৫৫২২০), সদর হাসপাতাল (০৭৮১-৫৫২০৭), ফায়ার সার্ভিস (০৭৮১-৫৫২১২)

Sunday, August 3, 2014

Bhutan Tours

Welcome to the Kingdom of Bhutan. Bhutan, also known as the last Shangri La and the Land of Thunder Dragon is perhaps the most unknown but fascinating travel destination left. Though the original name from the time of Marco Polo was 'Bootan,' the natives prefer to call their country 'Druk Yul,' or the Land of the Peaceful Thunder Dragon. Since ages great saints, mystics and scholars have blessed this beautiful country nestled in the majestic Himalayas with cultural and spiritual legacy. The culture and traditional lifestyle is still richly intact and it permeates all strands of modern day secular life. This is perhaps what attracts many to take a tours of Bhutan. From the traditional woven garments to the prayer flags on high mountain slopes, from the built environment to the natural environment, from the religious mask dances to the folk dances, this cultural heritage is proudly evident and offers a unique cultural setting. The Royal kingdom offers three regions to the tourists. These three regions are distinctly different due to prominent north, south mountain ranges that separate each area resulting in different topographical features.
Western Bhutan is comprised of the Haa Valley at 8860 ft. (recently opened to limited travel), Paro Valley at 7200 ft., Thimphu at 7500 ft. the Punakha Valley and Wangdue Phodrang at 4200 ft., separated by high passes or "La(s)": Cheli La (3988m, 13,084ft.), Dochu La (3050m, 10,007ft.), Pele La (3300m, 10,825ft, separates Western from Central). Western Bhutan is known for its stunning scenery with rice paddies and orchards cascading down magnificent mountains, the pristine rivers that flow through the main towns of Paro, Thimphu and Punakha, and unique two-story houses with brightly painted window designs. The Black Mountains separate Western Bhutan from Central Bhutan.

Thimpu is Capital to the tiny Himalayan kingdom of Bhutan, which is a wonderful city to tour. Thimpu is perhaps the smallest capital in the world. A tour of Thimpu is like a visit to the gallery of traditional Bhutanese art, architecture, culture, and tradition. Thimpu lies in a sylvan valley, on a hillside on the bank of the river by the same name. On your tours of Thimpu, you will find an interesting fact about the city. It is the only world capital without any traffic lights! The Trashi Chhoe Dzong or the fortress of Glorious Religion, and the Memorial Chorten are some of the old sites worth a visit. Among the modern attractions that you can tour include, the School of Arts and Crafts, the Weekend market, the Changlimithang Stadium, and the National Institute of Traditional Medicine.
Paro is situated in the Paro Valley of Eastern Himalayas. This town is full of legends, heroism, and natural splendor. However, the capital of Bhutan is Thimphu, but for a longer time of the history, Paro had the control of this part of the country. The Rimpung Dzong or Paro Dzong stands on a hillside above the gently meandering Paro River. The Ta dzong is an ancient watchtower where the National Museum has been housed. The National Museum and the famous Taktshang Monastery are both located here. Kyichu Iyakhang, one of the holiest temples of Bhutan lies 8 km from Paro. The Taktsang (Tiger's Nest) is a pilgrimage place that every Bhutanese tries to visit at least once in a lifetime. Phobjika is a glacial valley that has been designated as conservation area. It lies on the borders of the Black Mountain National Park that is one of the most important wildlife preserves in Bhutan. The rare, endangered black-necked cranes that have a special place in Bhutanese folklore roost here in the winters. Tourists can view their roosting places with permission from relevant authorities on their tours of Bhutan. Barking deer, wild boars, leopards, Himalayan black bears and red foxes are some of the animals that live here. The Satkeng Wildlife Sanctuary is also located nearby.Central region includes Trongsa and the rich broad valleys of Bumthang including Chumey, Choekhar, Tang and Ura valleys. The passes crossed are Yotang La (3400m, 11,155ft.) Shertang La (3573m, 11,723ft) and Thrumshing La (3800m, 12,465ft.).
Central Bhutan is known for its buckwheat and apple production, its sturdy stone houses, and its plethora of monasteries. It is the ideal place for walking due to its broad valleys and sloping mountains. The beauty of the Bumthang valleys is legendary. It is the spiritual heartland of Bhutan, where the most ancient and precious Buddhist sites are located, which you can visit on your Bhutan tour. It is the home to the most important dzongs, temples and palaces. Wangdichholing Palace, the residence of the former king, Ugyen Wangchuk; the temple of Jambey Lhakang, the sacred cave of Kurjey Lhakang; and the largest Bhutanese dzong, Jakar, are some of the tourist places that your can tour. The eastern region comprises Mongar, Lhuentse, Trashigang and Trashi Yangste. Sengor Valley separates Central from Eastern Bhutan. After Thrumshing La, passes crossed are Kori La (2400m), Yongphu La (2190m) and Narphung La (1698) at much lower altitudes than Western and Central. Lying in the centre of Bhutan, Trongsa is of great importance in the history of Bhutan. Both His Majesty King Ugyen Wangchuck, and his successor, King Jigme Wangchuck, ruled the country from Trongsa's ancient dzong. The present King continued this tradition when he was appointed Trongsa Penlop in 1972 shortly before he ascended the throne of Bhutan. Trongsa Dzong is an awe-inspiring and impregnable fortress. It has a labyrinth of temples, corridors and offices holding court over the local community. Trongsa is one of the quaintest and most charming of all Bhutanese towns. Its vista is traditional in appearance with wooden slatted houses lining the side of the hill.

Eastern Bhutan is known for its stunning hand-loomed textiles and the weavers are all masters of the supplementary weft-weave technique. Eastern Bhutan is the least traveled area of the country and here many of the kingdom's most ancient spiritual sights are found. One of the most spectacular drives in Bhutan is the 20 km stretch between Sengor and Namning in East Bhutan. Huge cascading waterfalls, endless turns and frequent fogs make for exhilarating travel. Travelers pass citrus groves in the relatively mild climate at Lingmithang, only an hour after being immersed in pine forest, dropping through 6,562 feet of ice and snow. The wild east of the Bhutanese kingdom can be explored from Punakha, Trashigang, Wangdue Phodrang and Gangtey Gompa, which are some of the favoritetouristsites.

Sri Lanka Tours

Paradise is perhaps the best word to describe Sri Lanka, a serene, tropical island of golden beaches and blue waters. Famed for the amazing diversity of culture, the natural beauty of the landscape and a complex history dating back to 543 BC, this country is truly amazing. Coastal beaches merging into jungle and the hill country with peaks reaching a height of 2400 meters. You will find terraced tea plantations, waterfalls and lakes, unspoiled palm-lined beaches with coral reefs, rice paddies, wildlife parks filled with animals in their native and much more on your tours of Sri Lanka. On your tour of Sri Lanka you can choose from a variety of activities from lazing on the beach to diving in coral reefs, observing the wildlife, mountain hikes through tea estates or wandering through the ruins of ancient temples and palaces...


Tourist Attractions in Sri Lanka

The Central Highlands of Sri Lanka offer a cool climate. You can find mountain slopes covered with acres and acres of tea with its fragrant aroma mingling with the fresh air. Nuwara Eliya, a wonderful hill resort to tour, resembling little English village, it is nestled among the mist covered central hills. Road leading to this hill station winds through miles and miles of 'green carpet' of tea bushes where tea pluckers are seen busily picking the 'bud and two leaves' that go to form the most popular brew in the world, the 'Ceylon Tea'. The 18 hole golf course is very popular with the locals and the foreign tourists. Hakgala Botanical Gardens a few kilometers away is an added attraction that you can visit on your Sri Lanka tours.

Beautiful waterfalls cascading down the mountain slopes enhance the beauty of the hill country. The geographical formation of the Island with the central highland sloping down to the coastal plains has resulted in several rivers and streams starting from the central region flowing down the hilly slopes in a radial pattern, creating beautiful waterfalls in several places in the hill country. Ramboda Falls (100 metres) is seen on the way to Nuwara Eliya. Devon (86 metres) and St. Clair's (73 metres) are two waterfalls seen close to Nuwara Eliya.
Horton Plains is the island's last remaining mountain forest spread in 3,160 hectares It is located in a plateau high up on the hills at an elevation above 2000 meters. Take a pleasant walk of about 5 km in a vast expanse of grassland interspersed with little streamlets and craggy trees leading to an awe inspiring edge called the 'World's End'. It is a sheer drop of over 800 metres sloping down further away over mist covered treetops fading into the distant sea offering a breathtaking yet the most beautiful sight in the entire country. The jungle bordering the grassland abounds with wildlife. Among the animals that can be seen on your Sri Lanka tour are the leopard, sambhur, barking deer, wild boar and monkeys. Horton Plains is a bird watcher's paradise.
Sri Pada 2,243 metres High Mountain in the southwest corner of the highlands not only provides natural beauty but also offers a sanctified place of veneration to people of all faiths. It is called Sri Pada, as it is believed that it bears the footprint of the Buddha. Christians say it is the foot print of Adam and call it Adam's peak. Thousands of pilgrims of all faiths climb this mountain during the pilgrim season (December to May). Watching the sunrise from the summit is an unforgettable sight.

Sri Lanka Beach Tours

Sri Lanka is never out of season for a beach holiday. Over one thousand kilometers of palm fringed sandy beaches encircle the Island. The beach resorts in the West Coast, South Coast and the East Coast are the most popular. You can enjoy a dip in the warm waters and relaxing on the sandy beach on your Sri Lanka tour. The West Coast stretches northwards from Mt. Lavinia a southern suburb of Colombo. Mt. Lavinia and Negombo are the best-developed beach resorts in this region.

The beach resort of Mt. Lavinia is eleven kilometers south from Colombo along the road to Galle .The Sea is safe for bathing and is a popular bathing spot with clean sandy beaches. The name Lavinia reminds of a secret love affair between a British Governor and a local damsel who used to meet at the holiday house of the Governor that stood on the spot where now the Mt. Lavinia Hotel is located.

The major beach resort in the West Coast is Negombo. The wide sandy beaches and the clear emerald sea are the major attractions of Negombo, a traditional fishing town. Besides the beach, the fish market is worth visiting where busy trading of a variety of fish including prawns, crabs and seer takes place in the mornings. The most popular fishing craft is the outrigger canoe called oruwa dug out from a huge log and is seen in large numbers in the Negombo lagoon.

The southern coastal belt is the most popular and comes to life mainly from October through April when the monsoon moves north east and the sea becomes calm with blue skies. It is an ideal place to spend the winter vacation. The main beach resorts are at Beruwala, Bentota and Hikkaduwa having several beach hotels with their exclusive beachfronts. Another interesting stretch of beach in the south is Unawatuna. An hour's drive from Colombo along the south coast will take the visitor to Beruwala that marks the beginning of the South Coast Beach Resort. Beruwala is the first Muslim settlement in the Island established by the Arab traders as far back as the 8th century. There is a famous Muslim mosque at the beachhead close to one of several lighthouse erected along the Sri Lankan coast.

Hikkaduwa ,99 km. from Colombo, offers underwater delights with a marine sanctuary abundant with rare corals and tropical fish. Explore the underwater world of colorful corals and beautiful shoals of fish by either snorkeling or taking a ride in a glass bottom boat. Four kilometers south of Galle and 120 km. from Colombo is Unawatuna, a beautiful stretch of beach. The road leading south from Colombo passes through the Southern Beach Resorts winding its way through stretches of coconut land. Along the drive, you could spot a man high up in the air crossing from tree to tree on two ropes tied tightly to the trees like a tight ropewalker in a circus. He is a 'toddy tapper' getting about his daily chores tapping the sap off the tender inflorescence of the coconut trees that is used to distill Sri Lankan Arrack and other alcoholic beverages. From April to October, the East Coast comes to life. It is one of the best stretches of beach over 300 kilometers long with tourist resorts in Nilaveli, 16 km. Nilaveli is a prime beach resort in the East Coast. It is ideally suited for sun bathing, sea bathing and diving. A few meters off shore are a small rocky island good for snorkeling.
Horatio Nelson, the British admiral of the 18th century had on arriving at the Trincomalee harbour described it as the finest harbor in the world. It is a beautiful natural harbor been in use from the days of the early Sinhala kings. The old Portuguese/Dutch Fort reminiscent of the colonial rule of the Island has the year 1676 inscribed above its entrance by the Dutch. The British subsequently named it Ford Frederick.

Kalkudah & Passekudah are very fine beaches in the East Coast. Kalkudah Bay is a 2 km. long wide stretch of beach well protected from the monsoon by the off shore reef. Passekudah Bay is another wide beach 4 km. long just south of Kalkudah. The combined area of Passekudah and Kalkudah is an ideal stretch for bathing, windsurfing and water skiing. Either snorkeling or taking a ride in a glass bottom boat can explore beautiful shoals of fish. Like most other coastal townships, Batticaloa was under Portuguese and Dutch rule. A Dutch Fort stands close to the Batticaloa lagoon. The most famous attraction of Batticaloa is its 'Singing Fish'. On full moon nights, a faint but distinct musical sound rises from the lagoon waters. This is attributed to a noise emanated by a kind of fish found in the lagoon.

Cultural Heritage Tours in Sri Lanka

The Cultural triangle is an area of valuable historical sites. These include the areas of Anuradhapura, Polonnaruwa and Sigiriya.Tour these ancient capital cities based at Giritale and Anuradhapura.View the panoramic sight of Giritale tank. The city tour of the Polonnaruwa include sites of Gal Vihara rock sculptures depicting various moods of Lord Buddha,relic houses of thuparamaya and thivanka built for the worship. The city of Anuradhapura known as the sacred city of Sri Lanka contains the oldest documented tree in the world still growing. Ruwanweliseya the gigantic white dome with a pinnacle as high as pyramid and nine storied Brazen palace built by a king in the 12th century.

An excursion to Mihintale would include the site where Buddhism was introduced to Sri Lanka in 247 B.C. This is a monastic city of caves, temples and ruins. Sigiriya, the other site in the Triangle, is a Rock Fortress that was turned into a palace with a beautiful Garden by King Kashyapa.This has been named the 8th wonder of the world and contains some beautiful frescoes of heavenly maidens in addition to beautifully laid out garden pools and fountains. Dambulla, situated close to Sigiriya, is a historical site with a Rock Temple that has 200 frescoes depicting the previous births of Lord Buddha.
Kandy is romantic city that you can tour on your Sri Lanka tours. During the months of July / August, a beautiful pageant known as the "Esala Perahera" is performed on the streets of Kandy. Kandy was the last Kingdom of Sri Lanka before falling into the hands of the British. A tour of the Holy City will fill you with an entrancing atmosphere where visits to the 'Dalada Maligawa' - the Temple of the Tooth Relic of Lord Buddha, the Upper and Lower Lake Drive, the Arts and Crafts Centre and the Royal Botanical Gardens in Peradeniya will be of interest. Andy is the shopping center for tourists and is famous for Batiks and handicrafts. A Cultural Dance Pageant held each evening provides much entertainment.

চীনের মহাপ্রাচীর ঘুরে আসুন

কিছুদিনের জন্য নিজের কাজগুলোকে তুলে রেখে স্ত্রী আর বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে এলাম চীন দেশ। চীন দূর বটে, কিন্তু এখন আর সুদূর নেই, চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনসে ঢাকা-কুনমিং ফ্লাইট চালু আছে। সরাসরি বাংলাদেশ থেকে চীনে যেতে সময় লাগে মাত্র দুই ঘণ্টা। এ শহরের নামের মানেটা বেশ অদ্ভুত। কুন শব্দের অর্থ দেশ আর মিং শব্দের অর্থ বসন্ত। তো কুনমিং হচ্ছে বসন্তের এক দেশ। সাত-সকালে জানালায় দাঁড়িয়ে এই কুনমিং শহরকেই দেখছিলাম। আকাশ-পাতাল ভাবনার মধ্যে সহধর্মিণীর ডাকাডাকি। জানালা বন্ধ করে ফিরে আসতে হলো। এখানে খাওয়াদাওয়া করতে যাওয়াটা মোটামুটি একটা অভিযানের মতো। তাই সকালে উঠেই লোকজন আসার আগে রেস্টুরেন্টে ছুটি। হোটেলে গিয়ে আমরা কী খেতে চাই এটা ওদের বোঝাতে মোটামুটি গলদঘর্ম হতে হয়। অর্ডার দেওয়ার সময় হাত-পা ছুড়ে নেচে-কুদে ছবি এঁকে তাদের বোঝাতে হয় কী খেতে চাই।
এখানে বসেই ঠিক হয় আমাদের পরবর্তী গন্তব্য স্টোন ফরেস্ট-পাথরের অরণ্য। দেশ থেকেই এর খুব নামডাক শুনে এসেছি, তাই চক্ষু-কর্ণের বিবাদ ভঞ্জন করতে আমরা চললাম স্টোন ফরেস্টের দিকে।
কুনমিং শহর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে এ পাথরের বন। পাথর সেখানে আর পাথর হয়ে নেই, ভারি অদ্ভুত তাদের আকার-আকৃতি। দেখলে মনে হবে বুঝি কোনো ভাস্কর পাথর কেটে ধীরে-সুস্থে তৈরি করেছেন এসব। কোনো পাথর দেখতে সিংহের মতো, কোনোটা আবার ঠিক যেন বাঘ থাবা মেলে আছে আকাশের দিকে। শুঁড় দোলানো হাতিও যে আছে! বড় বড় পাথরের খণ্ডে আছে বিচিত্র সব জীবজন্তু। পুরোটা জায়গা জুড়েই লম্বা লম্বা পাথরের স্তম্ভ। গাছের গুঁড়ির মতো দাঁড়িয়ে আছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। স্তম্ভগুলোর ফাঁক-ফোকর গলে ভেতরে চলে গেছে পাথুরে রাস্তা। ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে বসে পড়ি পাথরের ছায়ায়। দীর্ঘ দিন ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনে ক্ষয় প্রক্রিয়ায় চুইয়ে পড়া পানির প্রভাবে অসংখ্য পাথর শিলাস্তম্ভ ও চুনের দণ্ড সৃষ্টি হয়। এগুলো পাহাড়ের মতো না হয়ে অদ্ভুত সব আকার-আকৃতির রূপ নিয়েছে।
চীনে এসেছি, মহাপ্রাচীর না দেখলে চলে! এবার বেইজিং।চীনের এই রাজধানী শহর থেকে দল বেঁধে চললাম মহাপ্রাচীরের দিকে। অনেক দূর থেকেই চোখে পড়ছিল প্রাচীরটা, মস্ত অজগরের মতো কখনো পাহাড়ের ওপর দিয়ে আবার কখন নিচ দিয়ে এঁকেবেঁকে চলে গেছে প্রাচীর। এবার কেবল কারে চেপে উঠে পড়ি প্রাচীরে। কত দেশের কত ভাষার মানুষের যে মিলনমেলা এখানে, না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। আর পর্যটকদের পকেট খালি করতে চীনারা দারুণ সিদ্ধহস্ত। ছোট ছোট দোকানে কত না অদ্ভুত জিনিসপত্র। সেখানে বেচাকেনাও হয় দেদার। আমরা হেঁটে এগোতে থাকি। বি্নয় আর আবেগের স্রোত বয়ে যায় হৃৎপিণ্ড দিয়ে। একসময় সন্ধ্যা উতরে আকাশে এক ফালি চাঁদ ওঠে। আমরা ফিরে চলি উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ ধরে। পেছনে পড়ে থাকে মানুষের হাতে তৈরি পৃথিবীর বি্নয়-চীনের মহাপ্রাচীর।

নাটোরে বেড়ানো

নারদ নদীর তীরে অবস্থিত রাজশাহী বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা নাটোর। এর উত্তরে নওগাঁ ও বগুড়া জেলা, দক্ষিণে পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলা, পূর্বে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে রাজশাহী জেলা। আত্রাই, বড়াল, নারদ ও নন্দকুঁজা জেলার প্রধান নদী। নাটোর জেলার উল্লেখযোগ্য জায়গাগুলো নিয়ে কড়চার এবারের বেড়নো
রানী ভবানী রাজপ্রাসাদ
নাটোর জেলা শহরের বঙ্গজ্জল এলাকায় রয়েছে রানী ভবানী রাজপ্রাসাদ। তোরণ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়বে রাজবাড়ির কামান। রাজবাড়িটির ভেতরে রয়েছে ৬টি দিঘি। আর পুরো রাজবাড়িটি বাইরের দিক থেকে লেক আকৃতির দিঘি দিয়ে ঘেরা। ভেতরে রয়েছে বড় তরফ ভবন নামে পরিচিত রানী ভবানীর রাজপ্রাসাদ। সপ্তদশ শতাব্দিতে নির্মিত সুরম্য এ ভবনটি আজও সবার দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম। জানা যায়, রাজা রামজীবন ১৭০৬-১৭১০ সালের কোনো এক সময় পুঠিয়ার রাজার নিকট থেকে প্রায় ১৮০ বিঘার একটি বিল দান হিসেবে গ্রহণ করে সেখানে এই রাজপ্রাসাদ গড়ে তোলেন। রাজা রামজীবনের একমাত্র ছেলে কলিকা প্রসাদ মারা গেলে তার দত্তক ছেলের সঙ্গে রানী ভবানীর বিয়ে দেন।
উত্তরা গণভবন
জেলা শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত দিঘাপাতিয়া রাজবাড়ি, যা উত্তরা গণভবন নামে পরিচিত। নাটোরের রানী ভবানী তার নায়েব দয়ারামের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে তাকে দিঘাপাতিয়া পরগনা উপহার দেন। এখানে তিনি গড়ে তোলেন বেশ কটি সুরম্য প্রাসাদ। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে সেগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। পরে তার উত্তরসূরি প্রমোদনাথ রায় নতুন করে এখানে কয়েকটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করার পর ১৯৫২ সালে দিঘাপাতিয়ার শেষ রাজা প্রতিভানাথ সপরিবারে ভারত চলে যান। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত এ রাজপ্রাসাদটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের নজরে আসে এবং এর সংস্কার করা হয়। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার এটিকে ব্যবহার করে উত্তরা গণভবন হিসেবে । প্রায় ৪৩ একর জায়গাজুড়ে চারিদিকে লেক ও প্রাচীরবেষ্টিত এ রাজবাড়িটিতে ছোট-বড় বারোটি সুরম্য ভবন আছে। ভেতরে আছে ইতালি থেকে সংগৃহীত ভাস্কর্যে সজ্জিত বাগান। উত্তরা গণভবনের প্রবেশ পথে চারতলা বিশিষ্ট পিরামিড আকৃতির প্রবেশ দ্বার। আর এর চূড়ায় রয়েছে বিলেতের কোক অ্যান্ড টেলভি কোম্পানির শতবর্ষী প্রাচীন ঘণ্টা ঘড়ি।
চলনবিল

দেশের সবচেয়ে বড় বিল চলনবিলের একটি অংশ পড়েছে নাটোরে। জেলার সিংড়া উপজেলায় রয়েছে চলনবিলের বড় একটি অংশ। এছাড়া সিরাজগঞ্জের হাটিকুমড়ুল থেকে বনপাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ সড়ক তৈরি হয়েছে চলনবিলের ওপর দিয়েই। শীতে এসব বিলের পানি শুকিয়ে গেলেও বর্ষায় থাকে পরিপূর্ণ। সড়কের দু’পাশে এ সময় যেদিকে চোখ যায় শুধু অথৈ জলরাশি। নিজস্ব গাড়িতে গেলে যাত্রাপথেই চলনবিলের সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব।
চলনবিল জাদুঘর
জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর গ্রামে আছে চলনবিল জাদুঘর। স্থানীয় শিক্ষক আব্দুল হামিদ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় নিজ বাড়িতে ১৯৭৮ সালে গড়ে তুলেছেন বিচিত্র এ জাদুঘর। চলনবিলে প্রাপ্ত নানা নিদর্শন, মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম ছাড়াও এখানে আছে অনেক দুর্লভ সংগ্রহ। নাটোর থেকে বাসে গুরুদাসপুর উপজেলায় এসে সেখান থেকে নদী পার হয়ে রিকশায় আসা যাবে খুবজিপুর গ্রামের এ জাদুঘরে। শনিবার জাদুঘরটি বন্ধ থাকে।
হাইতি বিল
জেলাশহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে নলডাঙ্গা উপজেলায় আছে হাইতি বিল। প্রায় ৪৫০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ বিলটি দেশের সবচেয়ে গভীর বিল। প্রায় বারো মিটার গভীর এ বিলে সারা বছরই পানি থাকে। তবে বর্ষায় পানির পরিমাণ বেড়ে যায় অনেক বেশি।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার গাবতলি থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, ন্যাশনাল পরিবহন প্রভৃতি বাসে যাওয়া যায় নাটোর। এছাড়া রাজশাহীগামী যে কোনো বাসেই নাটোর আসা সম্ভব। ভাড়া ২৫০-৪০০টাকা।
এছাড়া ঢাকা থেকে আন্তনগর ট্রেন একতা এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেসে নাটোর আসা যায়। ভাড়া প্রথম শ্রেণী বাথ ৩৮০ টাকা, প্রথম শ্রেণী চেয়ার ২৬৫ টাকা, শোভন চেয়ার ১৭৫ টাকা, শোভন ১৩০ টাকা। এছাড়া খুলনা থেকে রূপসা ও সিমান্ত এক্সপ্রেসে নাটোর আসা যায়। ভাড়া শোভন চেয়ার ১৪৫ টাকা, শোভন ১২০ টাকা।
কোথায় থাকবেন
নাটোর শহরে থাকার জন্য সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে। শহরের চকরামপুরে হোটেল ভিআইপি (০৭৭১-৬৬০৯৭, নন এসি কক্ষ ১০০-২০০ টাকা)। মাদ্রাসা রোডে হোটেল উত্তরা (০৭৭১-৬২৫১৯, নন এসি কক্ষ ১০০ টাকা), মাদ্রাসা মোড়ে হোটেল মিল্লাত (০৭৭১-৬১০৬৫, নন এসি কক্ষ ১৮০ টাকা), কানাইখালীতে হোটেল আরপি (০৭৭১-৬২৫৭৯, নন এসি কক্ষ ১৭০ টাকা)। কানাইখালীতে হোটেল রুখসানা (০৭৭১-৬২৪৩১, নন এসি কক্ষ ১০০ টাকা)। নাটোর থেকে রাজশাহীর দূরত্ব প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার। ভালো কোনো হোটেলে থাকতে চাইলে রাজশাহী শহরে এসে থাকা যেতে পারে।
জরুরি প্রয়োজনে
জেলা সদর হাসপাতাল (০৭৭১-৬৬৯১২), সদর থানা (০৭৭১-৬৬৯১৭), ফায়ার সার্ভিস (০৭৭১-৬৬৯১১)।

নেত্রকোনায় বেড়ানো

রাজধানী ঢাকা থেকে সড়ক পথে ১৫৯ কিলোমিটার দূরে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলা লাগোয়া জেলা নেত্রকোনা। এর উত্তরে মেঘালয়ের গারো পাহাড়, দক্ষিণে কিশোরগঞ্জ জেলা, পূর্বে সুনামগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে ময়মনসিংহ জেলা। কংস, সোমেশ্বরী, মগরা, ধলা প্রভৃতি এ জেলার প্রধান নদী। নেত্রকোনার বিভিন্ন জয়গায় ভ্রমণ নিয়ে কড়চার এবারের বেড়ানো।
বিরিসিরি আদিবাসী সাংস্কৃতিক একাডেমি
জেলার দুর্গাপুর থানার বিরিসিরি ইউনিয়নে অবস্থিত আদিবাসী সাংস্কৃতিক একাডেমি। এ অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার নানান নিদর্শন সংরক্ষিত আছে এখানে। এখানে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয় ক্ষুদে জনগোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
টংক আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ
১৯৪৬-৫০ সালে কমরেড মনি সিংহের নেতৃত্বে পরিচালিত টঙ্ক আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ। আদিবাসী সাংস্কৃতিক একাডেমি থেকে কিছুটা সামনে শোমেশ্বরী নদী পার হয়ে কিছু দূর এগুলেই চোখে পড়বে এ স্মৃতিসৌধটি। বর্ষা মৌসুমে শোমেশ্বরী জলে পূর্ণ থাকলেও শীত মৌসুমে নদীটি পায়ে হেঁটে পার হওয়া যায়। প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বর কমরেড মনি সিংহের মৃত্যু দিবসে এখানে তিন দিন ব্যাপী মনি মেলা নামে লোকজ মেলা বসে।
সুসং দুর্গাপুরের জমিদার বাড়ি
জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় অবস্থিত সুসং দুর্গাপুরের জমিদার বাড়ি। সুসং দুর্গাপুরের সোমেশ্বর পঠকের বংশধররা এ বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। বাংলা ১৩০৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে জমিদার বাড়িটি একেবারে ধ্বংস হয়ে গেলে তাদের বংশধররা এটি পুনর্নির্মাণ করেন। এ জমিদার বাড়িটি চারটি অংশে বিভক্ত। বড় বাড়ি, মেজ বাড়ি, আবু বাড়ি ও দুই আনি বাড়ি। জানা যায় ১২৮০ মতান্তরে ১৫৯৪ খ্রীস্টাব্দের কোনো এক সময়ে কামরূপ কামাখ্যা থেকে শোমেশ্বর পাঠক নামে এক ব্রাহ্মণ এ অঞ্চলে ভ্রমণে আসেন। এখানকার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এখানে থেকে যাবার পরিকল্পনা করেন। শোমেশ্বর পাঠক গারো রাজা বৈশ্যকে পরাজিত ও নিহত করে রাজ্য দখল করে নেন। সে সময়ে সুসং রাজ্যের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী ছিল আদিবাসী, যাদের অধিকাংশই আবার গারো। জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের পূর্ব পর্যন্ত প্রায় তিনশ বছর তার বংশধররা এ অঞ্চলে জমিদারি করে।

সাধু যোসেফের ধর্মপল্লি
বিরিসিরি থেকে শোমেশ্বরী নদী পার হয়ে রিকশায় রানীখং গ্রাম। এখানে আছে সাধু যোসেফের ধর্মপল্লি। রানীখং গ্রামের এ ক্যাথলিক গির্জাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯১২ সালে।
রাশমণি স্মৃতিসৌধ
রানীখং থেকে বিজয়পুর পাহাড়ে যাবার পথে বহেরাতলীতে আছে হাজং মাতা রাশমনি স্মৃতিসৌধ। ১৯৪৬ সালের ৩১ জানুয়ারি সংঘটিত কৃষক ও টঙ্ক আন্দোলনের প্রথম শহীদ ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের নেত্রী হাজং মাতা রাশমণির স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে রাশমণি মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এখানে নির্মাণ করেছে রাশমণি স্মৃতিসৌধ।
বিজয়পুর পাহাড়
রাশমণি স্মৃতিসৌধ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে বিজয়পুরে আছে চীনা মাটির পাহাড়। এখান থেকে চীনা মাটি সংগ্রহের ফলে পাহাড়ের গায়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট ছোট পুকুরের মতো গভীর জলাধার। পাহাড়ের গায়ে স্বচ্ছ জলাধারগুলো দেখতে চমৎকার।
নেত্রকোনার হাওর
জেলার মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুড়ি, কলমাকান্দায় কম বেশি ৫৬ টি হাওর ও বিল আছে। শুস্ক মৌসুমে হাওরে চাষাবাদ হলেও বর্ষা মৌসুমে পানিতে পরিপূর্ণ থাকে। তখন এসব এলাকার একমাত্র বাহন হয় নৌকা। মোহনগঞ্জ শহর থেকে রিকশায় দিকলাকোনা গিয়ে এখানকার ডিঙ্গাপোতা হাওরে প্রবেশ করা যায়। এখান থেকে ইঞ্জিন নৌকায় করে হাওরের বিভিন্ন গ্রামে যাওয়া যায়। বর্ষাকালে হাওরের গ্রামগুলো একেকটি ছোট দ্বীপের মতো মনে হয়।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা মহাখালী বাস স্টেশন থেকে সরাসরি দুর্গাপুর যাবার বাস ছাড়ে। ভাড়া ১৮০-২০০ টাকা। নেত্রকোনা সদর থেকে দুর্গাপুর যাবার বাস সার্ভিস আছে। ঢাকা থেকে সরাসরি মোহনগঞ্জ যায় ঢাকার কমলাপুর থেকে বিআরটিসি ও মহাখালী থেকে নেত্র পরিবহন, রফ রফ পরিবহন, ইকোনো পরিবহনের বাস। ভাড়া ১৭০-১৮০ টাকা। ময়মনসিংহ থেকে মোহনগঞ্জ লোকাল ট্রেন থাকলেও তা সঠিক সময়ে চলাচল করে না।
কোথায় থাকবেন
দুর্গাপুরে থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা হলো ইয়ূথ মেন খৃষ্টান অ্যাসোসিয়েশন বা ওয়াইএমসিএ-এর রেস্ট হাউস। এখানকার তিনজনের কক্ষের ভাড়া ২০০ টাকা এবং একজনের কক্ষের ভাড়া ১৫০। ফোন- ০১৭৩১০৩৯৭৬৯। এছাড়া এখানে ইয়ূথ ওমেন খৃষ্টান অ্যাসোসিয়েশন বা ওয়াইডব্লিউসিএ পরিচালিত আরেকটি রেস্ট হাউস আছে। ফোন- ০১৭১২০৪২৯১৬।
এছাড়া দুর্গাপুরে থাকার জন্য সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে। উল্লেখযোগ্য দু-একটি হলো- স্বর্ণা গেস্ট হাউস, ফোন- ০১৭২৮৪৩৮৭১২। হোটেল সুসং, ফোন: ০১৯১৪৭৯১২৫৪। হোটেল গুলশান, ফোন- ০১৭১১১৫০৮০৭। এসব হোটেলে ১০০-৫০০ টাকায় থাকার ব্যবস্থা আছে। হাওর অঞ্চলে থাকার কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। তাই হাওর ভ্রমণে গেলে মোহনগঞ্জ থানা শহরে থাকতে হবে। এ শহরে থাকার জন্য নিম্নমানের কিছু হোটেল আছে। এরকম দু-একটি হোটেল হলো স্টেশন রোডে হোটেল শাপলা, ফোন: ০১৭১২১৩৭৬৫৯। স্টেশন রোডের আরেকটি হোটেল হলো হোটেল পাঠান, ফোন- ০১৯১৬৮৮৮৪৬০। এসব হোটেলের কক্ষ ভাড়া ৫০-১০০ টাকা।

Saturday, August 2, 2014

নওগাঁ বেড়ানো

নানা ঐতিহাসিক স্থানসমৃদ্ধ রাজশাহী বিভাগের জেলা নওগাঁ। এর উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে নাটোর ও রাজশাহী জেলা, পূর্বে জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলা এবং পশ্চিমে নবাবগঞ্জ জেলা। আত্রাই, ছোট যমুনা, নাগর, চিরি, তুলসীগঙ্গা, পুনর্ভবা এ জেলার প্রধান নদী। কড়চার এবারের বেড়ানো নওগাঁ জেলায়।
দুবলহাটি জমিদারবাড়ি ঃ নওগাঁ সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জমিদার জগৎরাম রাজ পরিবারের আবাসস্থল। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে নির্মিত এ জমিদার বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন বেহাল দশা। ইট-সুরকিতে নির্মিত এ বাড়িতে আছে সুরম্য প্রাসাদ, দুর্গা মন্দির, রঙ্গমঞ্চ। বাড়ির মূল ভবনটিতে কমপক্ষে একশটি কক্ষ আছে। এছাড়া কারুকাজময় বারান্দা, রঙিন কাচের অলংকরণ, নানা ধরনের ভাস্কর্য এ জমিদার বাড়ির প্রধান আকর্ষণ।
বলিহার রাজবাড়ি ঃ জেলা সদর থেকে প্রায় সতেরো কিলোমিটার দূরে বলিহার গ্রামে অবস্থিত। জানা যায় সম্রাট আওরঙ্গজেব কর্তৃক জায়গির লাভ করে বলিহারের জমিদারগণ এ এলাকায় নানা স্থাপনা গড়ে তোলেন। বলিহার রাজবাড়ি এর মধ্যে অন্যতম।
কুসুম্বা মসজিদ ঃ নওগাঁ জেলা সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে মান্দা জেলার কুসুম্বা গ্রামে অবস্থিত দেশের উল্লেখযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কুসুম্বা মসজিদ। এর আরেক নাম কালা পাহাড়। মসজিদের প্রধান প্রবেশ পথের উপরে স্থাপিত আরবি শিলালিপি অনুসারে মসজিদটি ৯৬৬ হিজরি তথা ১৫৫৮-৫৯ সালে নির্মিত। শেরশাহ শুরির শাসনামলের শেষ দিকে সুলতান গিয়াসউদ্দীন বাহাদুর শাহর রাজত্বকালে জনৈক সুলাইমান মসজিদটি নির্মাণ করেন। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে মসজিদটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইটের তৈরি এ মসজিদের ভেতর ও বাইরের দেয়াল পাথরের আস্তরণ দিয়ে আবৃত। মসজিদের পূর্ব দিকে তিনটি ও উত্তর ও দক্ষিণে একটি করে প্রবেশপথ আছে। পশ্চিম দেয়ালে আছে দুটি মিহরাব। উত্তর-পশ্চিম কোণে আছে একটি উঁচু প্লাটফর্ম। ধারণা করা হয় সমাজের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা এখানে নামাজ আদায় করতেন। মসজিদের মিহরাবগুলো খোদাই করা পাথরের নকশায় পরিপূর্ণ। নওগাঁ থেকে বাসে আসা যায় কুসুম্বা মসজিদে।

পাহাড়পুর ঃ নওগাঁ জেলার বদলগাছি থানার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার। এ বিহারের আরেক নাম সোমপুর বিহার। নওগাঁ শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩৪ কিলোমিটার। বহুকাল ধরে মাটি চাপা পড়ে থাকা এই বৌদ্ধ বিহারটি বেশ কয়েকবার প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে আবিষ্কৃত হয়েছে। ইতিহাস থেকে জানা যায় পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল আনুমানিক ৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৮২১ খ্রিস্টাব্দে এই বিহার ও মন্দির নির্মাণ করেন। যুগ যুগ ধরে এর ধ্বংসাবশেষের উপরে মাটি চাপা পড়ে বিশাল আকৃতির পাহাড়ে রূপ নেয়। আর এ কারণেই এর নাম হয় পাহাড়পুর। হিমালয়ের দক্ষিণের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ বিহার হিসেবে এটিকে বিবেচনা করা হয়। উত্তর ও দক্ষিণে ৯২২ ফুট এবং পূর্ব ও পশ্চিমে ৯১৯ ফুট বিস্তৃত এই বিহারের চার পাশে ১৪ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১৩ ফুট প্রস্থের ১৭৭টি কক্ষ আছে। ধারণা করা হয়, এসব কক্ষে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থাকতেন। বিহারের উত্তর দিকে এক সারিতে ৪৫ টি এবং অপর তিন সারিতে ৪৪টি করে কক্ষ ছিল।
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের ভেতরের উন্মুক্ত স্থানের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে কেন্দ্রীয় মন্দির। প্রায় ২৭ বর্গ মিটার জায়গার ওপরে এ মন্দিরটির ধ্বংসাবশেষের উচ্চতা প্রায় ২১ মিটার। মন্দিরটি ক্রসাকৃতির এবং তিন ধাপে ক্রমহ্রাসমান ঊর্ধ্বগামী। মন্দিরের দেয়ালে রয়েছে নানা রকম পোড়ামাটির ফলকচিত্র। পাহাড়পুর খননের সময় প্রাপ্ত নানা নিদর্শন নিয়ে একটি জাদুঘর আছে পাহাড়পুর কমপ্লেক্সে ঢুকতেই। এর শীতকালীন সময়সূচি হলো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। রবিবার পূর্ণ দিবস, সোমবার অর্ধ দিবস এবং অন্যান্য ছুটির দিনে এটি বন্ধ থাকে। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ইউনেস্কো ঘোষিত ৩২২ তম বিশ্ব ঐতিহ্য। ১৯৮৫ সালে এটি বিশ্ব ঐতিহ্য’র অন্তর্ভুক্ত হয়। নওগাঁ থেকে পাহাড়পুরের দূরত্ব ৩২ কিলোমিটার প্রায়। শহরের বালুডাঙ্গা বাস স্টেশন থেকে বাস যায় পাহাড়পুর। ভাড়া ৩০-৪০ টাকা।
হলুদ বিহার ঃ জেলা সদর থেকে আঠারো কিলোমিটার উত্তরে বদলগাছি থানার বিলাসবাড়ি ইউনিয়নে অবস্থিত প্রাচীন প্রত্নস্থল হলুদ বিহার। স্থানীয়ভাবে দ্বীপগঞ্জ নামে পরিচিত এ গ্রামটিতে নানা প্রাচীন বৌদ্ধ স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। ১৯৭৬ সালে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণার পর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৮৪ ও ১৯৯৩ সালে এখানে খনন কাজ করে। ফলে প্রতি পাশে ৫.৮ মিটার দীর্ঘ বর্গাকার একটি ভিত্তি উন্মোচিত হয়। খননের ফলে প্রাপ্ত বিভিন্ন নিদর্শন থেকে হলুদ বিহারকে পাহাড়পুর ও সীতাকোট বিহারের সমসাময়িক কালের বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞগণ।
জগদ্দল মহবিহার ঃ জেলার ধামুইরহাট উপজেলায় অবস্থিত প্রত্নস্থল জগদ্দল মহাবিহার। পাল রাজাদের আমলে নির্মিত স্থাপনাগুলোর মধ্যে এটি উল্লেখযোগ্য। জানা যায়, রামপালের রাজত্বকালে (১০৭৭-১১২০) জগদ্দল মহাবিহার নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৬ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে এখানে এই প্রাচীন বৌদ্ধবিহারের অংশবিশেষ আবিষ্কৃত হয়। এছাড়াও খননের সময় এখান থেকে দেড়শটিরও বেশি প্রাচীন নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়। নওগার বালুডাঙ্গা বাস স্টেশন থেকে বাসে ধামুইরহাট উপজেলা সদরে সেখান ধেকে আবার বাস কিংবা টেম্পুতে জগদ্দল মহাবিহার আসা যায়।
ভিমের পান্টি ঃ জেলার ধামুইরহাট উপজেলায় আরেকটি প্রাচীন নিদর্শন গরুড়স্তম্ভ, স্থানীয়ভাবে যা ভিমের পান্টি নামে পরিচিত। পাল রাজা নারায়ণ পালের শাসনামলে খ্রিস্টীয় দশম শতকে বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে এ স্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়। কালো পাথরে নির্মিত এ স্তম্ভটির উপরের অংশ ভাঙা, যেখানে আগে একটি গরুড় মূর্তি ছিল। জানা যায় বজ্রপাতের ফলে কোনো এক সময়ে মূর্তিটি ভেঙে যায় এবং স্তম্ভটি একদিকে কিছুটা হেলে পড়ে।
মাহিসন্তোষ ঃ জেলার পত্নীতলা উপজেলায় অবস্থিত প্রত্নস্থল। জনশ্রুতি আছে এক দরবেশ মাছের পিঠে চড়ে এ স্থানে এসেছিলেন। মানুষের কাছে তিনি মাহিসওয়ার নামে পরিচিতি লাভ করেন। তার নামানুসারে এ জায়গার নাম মাহিসন্তোষ। আর অন্যমতে প্রথম মহীপালের নামানুসারে এ জায়গার নামকরণ হয়। এখানে একটি প্রাচীন সমাধিক্ষেত্র ও একটি মসজিদের ধ্বংসাবশেষ আছে। এছাড়া দুটি প্রাচীন বড় পুকুর আছে এ এলাকায়।
ধীবর দিঘি ঃ জেলার পত্নীতলা উপজেলার আরেকটি দর্শনীয় জায়গা ধীবর দিঘি। এ দিঘির মাঝখানে আছে দিব্যক বিজয়স্তম্ভ। দ্বাদশ শতকে পাল শাসক দ্বিতীয় মহীপালকে যুদ্ধে পরাজিত করে কৈবত রাজা দিব্যক বিজয়ের নিদর্শন হিসেবে এ দিঘি খনন করে এর মাঝখনে বিজয়স্তম্ভটি স্থাপন করেন। পাথরের তৈরি স্তম্ভটির উচ্চতা ৩১ ফুট ৮ ইঞ্চি। পানির নিচের অংশ ২৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। নওগাঁ বালুডাঙ্গা বাস স্টেশন থেকে বাসে পত্নীতলার নজিপুরের ধীবর স্টেশনে নেমে সেখান থেকে রিকশায় ধীবর দিঘি যাওয়া যায়।
পতিসর কুঠিবাড়ি ঃ জেলা শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে আত্রাই উপজেলার পতিসরে নাগর নদীর তীরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের জমিদারির কালিগ্রাম পরগনার সদর কাচারি ছিল এখানে। রবীন্দ্র কাচারিবাড়িতে বর্তমানে সংরক্ষিত আছে কবির অনেক স্মৃতিময় নিদর্শন। প্রতিবছর ২৫ বৈশাখ কবির জন্মদিনে এখানে নানা অনুষ্ঠান এবং লোকজ মেলা হয়ে আসছে বহু বছর ধরে।নওগাঁ সদর থেকে পতিসর আসা যায় বাসে। ভাড়া ৩০-৩৫ টাকা।
কীভাবে যাবেন ঃ ঢাকা থেকে বাসে সরাসরি নওগাঁ যাওয়া যায়। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি ঢাকার গাবতলী থেকে এ পথের বাসগুলো ছাড়ে এ পথের বাসগুলো। শ্যামলি পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, এস আর পরিবহন, কেয়া পরবিহন, বাবলু পরিবহন, টি আর পরিবহন ইত্যাদি পরিবহন সংস্থার নন এসি বাস চলে এ পথে। ভাড়া ২২০-২৪০ টাকা। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে নওগাঁ যায় শ্যামলি পরিবহন। ভাড়া ৪৫০ টাকা। রাজশাহী থেকেও বাসে নওগাঁ আসা যায়। ভাড়া ৭০ টাকা। এছাড়া ঢাকা থেকে আন্তঃনগর ট্রেন একতা এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস, নীল সাগর এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস, রাজশাহী থেকে বরেন্দ্র ও তিতুমীর এক্সপ্রেস, খুলনা থেকে সীমান্ত এক্সপ্রেস ও রূপসা এক্সপ্রেসে সান্তাহার এসে সহজেই নওগাঁ আসা যায়।
কোথায় থাকবেন ঃ নওগাঁ শহরে থাকার জন্য সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে। এরকম কয়েকটি হোটেল হলো- শহরের সান্তাহার রোডে হোটেল অবকাশ (০৭৪১-৬২৩৫৬), সান্তাহার রোডে হোটেল ফারিয়াল (০৭৪১-৬২৭৬৫), মুক্তির মোড়ে হোটেল আগমনী (০৭৪১-৬৩৩৫১), শহরের পাড়-নওগাঁ এলাকায় হোটেল যমুনা (০৭৪১-৬২৬৭৪), পুরনো বাস স্টেশনে হোটেল সরণী (০৭৪১-৬১৬৮৫)। এসব হোটেলে ৮০-৪০০ টাকায় থাকার ব্যবস্থা আছে।