Showing posts with label কুয়াকাটার ফাতরার বন. Show all posts
Showing posts with label কুয়াকাটার ফাতরার বন. Show all posts

Tuesday, February 17, 2015

টাঙ্গাইলে শ্রমিকলীগের মানববন্ধন

গাড়ী ভাংচুর, পেট্রোল বোমা হামলায় মানুষ পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে শ্রমিকলীগের মানববন্ধন




Blog : http://www.freetouristguide24.blogspot.com

Facebook :https://www.facebook.com/kazi.ripon.39

Facebook Group : https://www.facebook.com/groups/794175233980869

Facebook Page :https://www.facebook.com/pages/Tangail-Page/1387188804928344

Google Plus :https://plus.google.com/105576466888324597753/posts

Twitter : https://twitter.com/riponkazi2

email : ripon.kazi@gmail.com

Friday, February 13, 2015

টাঙ্গাইলে ঔষুধ তৈরীর অভিযোগে এক জনকে কারাদন্ড

বিপুল পরিমান ভেজাল ঔষুধ ও তৈরীর উপকরন উদ্ধার
টাঙ্গাইলে ঔষুধ তৈরীর অভিযোগে  এক জনকে কারাদন্ড





Monday, August 11, 2014

নারায়ণগঞ্জ বেড়ানো

ঢাকার পার্শ্ববর্তী অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্র এবং নদীবন্দর নারায়ণগঞ্জ। জেলার উত্তরে নরসিংদী ও গাজীপুর জেলা, দক্ষিণে মুন্সীগঞ্জ জেলা, পশ্চিমে ঢাকা জেলা এবং পূর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা জেলা। এ জেলায় বেড়ানোর জায়গাগুলো নিয়ে  এবারের বেড়ানো।
হাজীগঞ্জ দূর্গ : নারায়ণগঞ্জ জেলাশহরের কিল্লারপুলে অবস্থিত ঐতিহাসিক হাজীগঞ্জ দুর্গ। বাংলার বারভূঁইয়াদের অন্যতম ঈসা খাঁর কেল্লা হিসেবেও অনেকের কাছে এটি পরিচিত। নদীপথে মগ ও পর্তুগিজদের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য মীরজুমলার শাসনামলে এ দুর্গ নির্মিত বলে ঐতিহাসিকগণ মনে করেন। চতুর্ভুজাকৃতি এই দুর্গের প্রাচীরে রয়েছে বন্দুক বসিয়ে গুলি চালাবার ফোকর।
সোনাকান্দা দুর্গ : শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দরে অবস্থিত এ জলদুর্গটি। হাজীগঞ্জ দুর্গের প্রায় বিপরীত দিকেই এর অবস্থান। নদীপথে ঢাকার সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ নদীপথগুলোর নিরাপত্তার জন্য মুঘল শাসকগণ কতগুলো জলদুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সোনাকান্দা দুর্গ।
বিবি মরিয়ম মসজিদ ও সমাধি : নারায়ণগঞ্জ শহরের হাজীগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত এ মসজিদটি হাজীগঞ্জ মসজিদ নামেও পরিচিতি। তিন গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদটি শায়েস্তা খাঁ কর্তৃক ১৬৬৪-১৬৮৮ সালে নির্মিত বলে ঐতিহাসিকগণ মনে করেন। মসজিদের কাছে তাঁর কন্যা বিবি মরিয়মের সমাধি রয়েছে বলেই মসজিদটির নাম বিবি মরিয়ম মসজিদ বলে অনেকে মনে করেন।
কদমরসুল দরগা : নারায়ণগঞ্জ শহরের বিপরীত দিকে শীতলক্ষা নদীর পূর্ব পাড়ে নবীগঞ্জে অবস্থিত কদমরসুল দরগা। এখানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স)-এর কদম মোবারকের ছাপ সংবলিত একটি পাথর রয়েছে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, সম্রাট অকবরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণাকারী আফগান নেতা মাসুম খান কাবুলি পদচিহ্ন সংবলিত এ পাথরটি একজন আরব বণিকের কাছ থেকে কিনেছিলেন। ঢাকার জমিদার গোলাম নবী ১৭৭৭-১৭৭৮ সালে এ সৌধটি নির্মাণ করেন। আর কদম রসুল দরগার প্রধান ফটকটি গোলাম নবীর ছেলে গোলাম মুহাম্মদ ১৮০৫-১৮০৬ সালে নির্মাণ করেন।

শীতলক্ষা নদী : নারায়ণগঞ্জের প্রধান নদী। এক সময় বিশ্বসমাদৃত বাংলাদেশের মসলিন শিল্প গড়ে উঠেছিল শীতলক্ষার দুই তীরে। এখন বিভিন্ন কলকারখানায় পরিপূর্ণ নদীর দুই পাশ। নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে শুরু করে কালীগঞ্জ পর্যন্ত দীর্ঘ পথ নৌ ভ্রমণে ভালো লাগবে সবার।
রূপগঞ্জ জামদানি পল্লি : শীতলক্ষার তীরে রূপগঞ্জ থানার রূপসীতে রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় জামদানী পল্লি। রূপসী বাজার ও এর আশপাশে শতশত জামদানি শিল্পী দিন-রাত তাঁতে বুনেন নানা রকম শৈল্পিক জামদানি। তুলনামূলক কম দামে এখান থেকে ভালো মানের জামদনি শাড়ি কেনা যায়।
মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি : নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের মুড়াপাড়ায় রয়েছে প্রাচীন একটি জমিদার বাড়ি। বর্তমানে এ বাড়িতে চলছে মুড়াপাড়া ডিগ্রি কলেজের কার্যক্রম। জমিদার বাড়ির সামনেই রয়েছে বিশাল আকৃতির পুকুর। প্রাচীন এ প্রাসাদটি বেশ আকর্ষণীয়। প্রায় ৯৫টি কক্ষ সংবলিত এ প্রাসাদে অতিথিশালা, নাচঘর, পূজামণ্ডপ, কাছারিঘর, আস্তাবলসহ আরো বিভিন্ন অংশে বিস্তৃত।
রাসেল পার্ক : মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ির পাশেই বেসরকারি একটি বনভোজন কেন্দ্র রাসেল পার্ক। নানারকম গাছ-গাছালি ছাড়াও এখানে আছে ছোট একটি চিড়িয়াখানা। সপ্তাহের প্রতিদিনই সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে এটি।
সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের সমাধি : নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার মোগড়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত বাংলার স্বাধীন সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের সমাধি। পাথরে তৈরি এ সমাধিসৌধটি ১৪১০ সালে নির্মিত হয়। সুলতান মারা যান ১৪০২ সালে। এ সমাধিসৌধের পূর্ব পাশের ইট-নির্মিত সমাধিটি সুলতানের প্রধান বিচারপতি কাজী সিরাজউদ্দিনের বলে অনুমান করা হয়।
লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন : জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় অবস্থিত লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগড়াপাড়া থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন। বাংলার বারভূইঁয়াদের অন্যতম ঈসা খাঁর শাসনামলে বর্তমান সোনারগাঁও বাংলার রাজধানী ছিল। বর্তমানে এখানে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের একটি জাদুঘর ছাড়াও প্রাচীন অনেক নিদর্শন বিদ্যমান। ১৯৭৫ সালে এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয় বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর। শনিবার থেকে বুধবার প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে লোকশিল্প জাদুঘর। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত খোলা, মাঝে ১২ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মধ্যাহ্ন বিরতি। বৃহস্পতিবার লোকশিল্প জাদুঘর বন্ধ থাকে। কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে প্রবেশমূল্য দশ টাকা।
পানাম নগর : লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গোয়ালদী গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক পানামনগর। প্রাচীন এ নগরীর ধ্বংসাবশেষ এখনো বিদ্যমান এখানে। পানামনগরের পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক পনাম পুল।

গোয়ালদী শাহী মসজিদ : পানামনগর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ঐতিহাসিক গোয়ালদী শাহী মসজিদ। ঐতিহাসিকগণের মতে মসজিদটি ১৫১৯ সালে নির্মিত। একগম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটি বাইরে পোড়ামাটির অলংকরণে সমৃদ্ধ।
কীভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের পথে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলাচল করে আসিয়ান, বন্ধন, উৎসব, সেতু, আনন্দ ইত্যাদি পরিবহনের বাস। ঢাকার বায়তুল মোকাররম ও গুলিস্তান থেকে এসব বাস পাঁচ মিনিট পর পর ছেড়ে যায় নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে। ঢাকা থেকে সোনারগাঁও যাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো সার্ভিস বোরাক, সোনারগাঁও ইত্যাদি। এছাড়া ঢাকা থেকে কুমিল্লা, দাউদকান্দিগামী যে কোনো বাসে উঠে মোগড়াপাড়া নেমে সহজেই আসা যায় সোনারগাঁও।

কুয়াকাটার ফাতরার বন

আমাদের দেশে ঘুরে দেখার মতো অনেক পরিচিত জায়গা আছে। আবার এমন কিছু জায়গা আছে, যেগুলো কম পরিচিত হলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। এমনই একটি জায়গা হলো কুয়াকাটার কাছে ফাতরার বন।
কুয়াকাটা যান অনেকেই। কিন্তু এর কাছেই ফাতরার বনে অনেকেই যায় না। ওই বনে যাওয়ার জন্য অবশ্য খুব নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকাটাও অবশ্য একটা কারণ। মাসখানেক আগে সাত বন্ধু মিলে কুয়াকাটা বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে একদিন কাটিয়ে পরদিন তথ্য সংগ্রহ করে সকাল নয়টায় ফাতরার বনের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলাম। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে ছোট্ট একটা ট্রলারে করে শুরু হয় আমাদের সমুদ্রযাত্রা। ছিল ভয় পাওয়ার মতো যথেষ্ট উত্তাল ঢেউ। তাতেই বোঝা যায়, কেন খুব একটা পর্যটকদের আনাগোনা নেই এ পথে। এ পথে যেতে একটু রোমাঞ্চপ্রিয় হতে হয়। এক থেকে দেড় ঘণ্টা ট্রলারে টানা চলার পর চোখে পড়ল সাত-আট কিলোমিটার বিস্তৃত সারি সারি গাছ আর ঘন বনজঙ্গল। দূর থেকে মনে হলো একটা সবুজ বনের দ্বীপ। শেষে ট্রলারটি বনের কোলঘেঁষে একটা খালে ঢুকল। এই খালটিই বনের গভীরে চলে গেছে। খালের মধ্য দিয়ে কিছু দূর এগোনোর পর ট্রলারটি ছোট জেটির মতো এক জায়গায় থামল। প্রথমে মনে হচ্ছিল, সুন্দরবনের কোনো খাল পার হচ্ছি। একে একে সবাই নামলাম ট্রলার থেকে। নেমেই দেখা গেল, বনের মধ্যে সাজানো-গোছানো একটি পুকুর। এর পাশে বাংলোর মতো একটা বাড়ি। আর আশপাশে দু-একজন মানুষ। জিজ্ঞেস করতেই তাঁরা বললেন, এটা আমতলী ফরেস্ট রেঞ্জের বাংলো। এই বনের মাঝেমধ্যে জেলেরা মাছ ধরতে আসে। এ ছাড়া মানুষ বা কোনো বন্যপ্রাণীর আনাগোনাও নেই। চারদিকে শুধুই ঘন বন। প্রায় ঘণ্টাখানেক ঘন বনের মধ্যে ঘুরেফিরে বেরিয়ে আবার ট্রলারে চড়লাম। ট্রলারের চালককে খালের মধ্য দিয়ে বনের আরো গভীর যেতে বললাম। চারদিকে এত ঘন জঙ্গলে ভরা ভাবতেই পরিনি। চারদিকে নিস্তব্ধতা শুধু। মোট ঘণ্টা দুয়েক থেকে আবার ফেরার পধ ধরলাম নদী হয়ে সমুদ্রপাড় ঘেঁষে।

যাবেন কীভাবে
ঢাকা থেকে সড়কপথে কুয়াকাটা যাওয়া যায়। গাবতলী থেকে বাস ছাড়ে। কুয়াকাটায় থাকার জন্য বন বিভাগের রেস্টহাউস ও বেসরকারি হোস্টেল রয়েছে। কুয়াকাটা থেকে ট্রলারে করে ফাতরার বনে যেতে পারেন।